আমরা ভিক্ষা করতে যাই, লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়! স্বীকার পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর

Spread the love

আবারও প্রকাশ্যে পাকিস্তানের দৈন্যদশা। আর পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ নিজেই প্রকাশ্যে সেই কথা জানিয়ে দেশের অসহায়তার জন্য দুঃখপ্রকাশ করলেন। সম্প্রতি একটি ভাষণে শেহবাজ শরিফ স্বীকার করে নিলেন, পাকিস্তান সম্পূর্ণরূপে বিদেশি আর্থিক সাহায্য এবং নানা ধরনের প্যাকেজের উপর নির্ভরশীল। ঋণ চাইতে পাক সেনা সর্বাধিনায়ক ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বিভিন্ন দেশে ভ্রমণও করেছেন।

শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে শীর্ষ পাকিস্তানি রফতানিকারকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই বিরল স্বীকারোক্তি আসে। দেশের অর্থনীতির কারণে তাঁর সরকারকে যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল সে সম্পর্কে কথা বলেন শরিফ। পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবস্থার উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি হল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের বন্ধু এবং দেশগুলির ঋণও এর মধ্যে রয়েছে…কিন্তু আপনি জানেন যে যে ঋণ নিতে যায়, তার মাথা নত হয়ে যায়।’ শেহবাজ স্পষ্ট ভাবে স্বীকার করেছেন, যখন কোনও দেশ আর্থিক সাহায্য চায় তখন তাকে তার আত্মসম্মানের সঙ্গে আপস করতে হয়। অনেক বাধ্যবাধকতা থাকে। এক একটা সময়ে যা মেনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং আমি যখন বিশ্বজুড়ে ভিক্ষা করতে ঘুরে বেড়াই, তখন আমরা লজ্জিত হই। ঋণ নেওয়া আমাদের আত্মসম্মানের উপর একটি বিশাল বোঝা। লজ্জায় আমাদের মাথা নত হয়ে যায়। তারা আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু চায়, আর আমরা না বলতে পারি না…।’ শরিফ খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছেন যে পাকিস্তান একটি ‘হাইব্রিড শাসন’ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে সেনাবাহিনী দেশ শাসনে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। শরিফ এই মন্তব্য এমন এক সময়ে করেছেন, যখন কঠোর নীতি প্রয়োগের পর অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পাকিস্তান সরকার ঋণ পেতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছে ভিক্ষে চেয়েছে। তিনি আরও বলেন, অর্থনীতি স্থিতিশীল করার কৃতিত্ব মুনির এবং সেনাবাহিনীর। তিনি পেট্রোল চোরাচালান মোকাবিলা, চিনি শিল্পকে স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে সেনার একশো শতাংশ ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য আবারও পাকিস্তানের চলমান অর্থনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে, যার মধ্যে রয়েছে ভারী ঋণের বোঝা, ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য এবং উচ্চ বেকারত্ব।

পাকিস্তান সম্প্রতি আইএমএফ থেকে ১.২ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেয়েছে। এই তহবিল পাকিস্তানকে ঋণ পরিশোধ করতে এবং তার বৈদেশিক রিজার্ভ তৈরি করতে সহায়তা করেছে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এই সপ্তাহে জানিয়েছে যে দেশের বৈদেশিক রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে-যা রেকর্ড। তবে, এই কর্মসূচির জন্য পাকিস্তানকে একটি কঠোর মুদ্রা নীতি বজায় রাখতে হবে এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক এই সপ্তাহে অপ্রত্যাশিতভাবে তার মূল সুদের হার ১০.৫ শতাংশে স্থিতিশীল রেখেছে। কারণ জুন পর্যন্ত জিডিপি ৩.৭৫-৪.৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *