‘আমার, বুম্বাদার আর জিৎদার লড়াই এই নিয়ে যে…’!

Spread the love

বুধবার অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারি নতুন বছরের সিনে ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করার জন্য ইমপার দফতরে বৈঠক বসেছিল স্ক্রিনিং কমিটির। ইন্ডাস্ট্রির সূত্র শোনা যায় সেখানেই নাকি বৈঠকে উপস্থিত থাকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও দেবের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। প্রসেনজিতের পাওয়া পুরস্কারকে ‘পদ্মশ্রী-টদ্মশ্রী’ বলে নাকি ব্যঙ্গ করেন দেব। তবে এই সব বিতর্কের মাঝেই দেব শুক্রবার প্রসেনজিত ও তাঁর ছেলের সঙ্গে ‘এমনি’ ক্যাপশন লিখে ছবি পোস্ট করেন। তারপর প্রসেনজিৎও ওই একই ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘তুই এলি, কথা বললি, ভালো লাগলো। নিজের খারাপ লাগাগুলো কে সরিয়ে বাড়ির ভুলবোঝাবুঝিগুলো কে সামলানো টাই মনে হয় বড়দের কাজ। ভালো থাক। আদর।’ তবে তাঁদের এই পোস্টের পর সামজমাধ্যম জুড়ে ফের নানা আলোচনা শুরু হয়। আর এবার এই সবটা নিয়ে মুখ খুললেন দেব।

শুক্রবার প্রসেনজিতের ছবি ‘বিজয়গড়ের হীরে’-এর সাকসেস পার্টিতে এসে সংবাদ মাধ্যমকে দেব বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনও মান অভিমান ছিল না। যা দেখছি বা পড়ছি, তা দেখে বুঝতে পারছি না যে কেন হচ্ছে বা কীসের জন্য হচ্ছে। কিন্তু সকলকে শুভেচ্ছা যাঁরা যাঁরা এটা করছেন বা লিখছেন। আমি কিছু বললে ইতিহাস তৈরি হয়ে যাবে। কিন্তু আমি আজ ইতিহাস তৈরি করতে চাইছি না। আজ একটাই ইতিহাস থাক। বুম্বাদা পদ্মশ্রী পেয়েছেন সেটার সেলেব্রেশন আর ‘কাকাবাবু’র যে সাকসেস, তা নিয়েই আজ আলোচনা হোক।’

এর পাশাপাশি জিতের সঙ্গেও মণমালিণ্যের গুঞ্জন প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন তিনি। দেবকে বলতে শোনা যায়, ‘কাল আমি রাত বারোটা পর্যন্ত জিৎদার সঙ্গে আড্ডা দিয়ে, পার্টি করে, খাওয়া-দাওয়া করে বাড়ি ফিরেছি। আমাদের মধ্যে অনেক কিছু কাল আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা যা যা আলোচনা করেছি তা তা জনসমক্ষে প্রকাশ্যে আনবো না। সেটা আমাদের মধ্যেই থাকবে। বুম্বার সঙ্গেও কাল ওখান থেকেই কথা হয়েছিল। আজ ওঁর সঙ্গে দেখাও হয়েছে। তাই কে কী বলছে বা বলছে না সেটা গুরত্বপূর্ণ নয়।’

তাঁর কথায়, ‘আমার মনে হয় কমিটির মধ্যে কিছু কথা গোপন থাকার কথা ছিল। কিন্তু তা বেরিয়ে এসেছে। আর সেগুলো যেভাবে বেরিয়ে এসেছে সেভাবে একদমই কিছু হয়নি। যেটা নিয়ে বলা হচ্ছে যে, আমি নাকি বুম্বাদাকে অপমান করেছি। সেভাবে কিন্তু কিছু করা হয়নি। কাল যখন সিনেমা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছিল, যে কখন কোন সিনেমা নিয়ে আসবে, তখন বুম্বাদা অনেকক্ষণ পর হাত তুলে বলেন যে, ‘আমি একটা ছোট সিনেমা করতে চাই। আমি আর ঋতু (ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত) কৌশিকদার (কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের) সঙ্গে। আমি কি পুজোয় আসতে পারি?’ তখন আমি বলি, ‘তুমি অবশ্যই আসতে পারো। তুমি ৪০ বছর ধরে কাজ করছ। তুমি ‘পদ্মশ্রী’ পেয়েছ। তুমি আবার ডেট চাইছো কেন?’ প্রযোজকরা ডেট চাইবে কেন? এটাই আমি বলেছিলাম। এটা আমি জিৎদার ক্ষেত্রেও বলেছিলাম। সেখানে আমার সাপোর্ট থাকবে জিৎদা, বুম্বাদাকে। জিৎদা ২৫ বছর ধরে কাজ করছেন। আমাদের ছবির বাজেটও বেশি হয়। কিন্তু তারপরও কেন আমাদের লাইনের পিছনে দাঁড়িয়ে ইমপা থেকে ডেট চাইতে হয় তাহলে বুম্বাদার মতো মানুষের জন্য কোথাও গিয়ে সেটা মানহানির। সেই জায়গা থেকেই আমি বলেছিলাম কাল। কিন্তু আমি কী বলেছিলাম সেটাকে অন্যভাবে দেখানো হয়েছে।’

দেবের মতে, দর্শকরাই ঠিক করবেন, তাঁরা কোন ছবি দেখতে চান। পাশাপাপাশি এই সিদ্ধান্ত হবে হল মালিকদের, যে তাঁরা কোন ছবি তাঁদের হলে দেখাতে চান। দেব বলেন, ‘কিন্তু আমার কথাগুলোকে ভেঙে যে ভাবে দেখানো হচ্ছে সেটা আমার জন্য খুবই কষ্টকর। এর থেকে এটাই বোঝা যাচ্ছে যে, আগামী দিনে আমার লড়াইটা আরও শক্ত হবে। কারণ পুরো টার্গেটটা দেখতে পাচ্ছি আমি। যে বা যাঁরা করছে, সেটাও বুঝতে পারছি কেন করছেন। আমরা, বুম্বাদা, জিৎদার লড়াইটা এই নিয়ে যে, বাংলা ছবি যেন এগিয়ে যায়। আমার মনে হয় অধিকাংশরই তাই। সেদিনের মিটিংয়ে অনেক লোক ছিল। তাঁরাও বলবেন।’

পদ্মশ্রী-টদ্মশ্রী বিতর্কে নায়ক বলেন, ‘এমন এমন কথা রটছে সত্যি তা দুঃখজনক। খুব কম মানুষই এর প্রতিবাদ করেছেন, যাঁরা আমার সঙ্গে ছিল। কিন্তু যাঁরা মজা নেওয়ার, তাঁরা মজা নিয়েছে। আর বুম্বাদার সঙ্গে এই জন্মে আমার কিছু হবে না। সেটা মিশুক (তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে) আর অর্পিতাদি (অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়) জানেন। আর আমার বাবা-মাও জানেন। আর যাঁরা এই চেষ্টাগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের শুভেচ্ছা। আরও এই চেষ্টাগুলো চালিয়ে যান।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *