ভারতকে স্বাধীনতার জন্য অনেক মূল্য দিতে হয়েছে, আজ এমনই বললেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল। তিনি বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম অপমান, ধ্বংস এবং প্রচণ্ড ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ভারত। তিনি যুব সম্প্রদায়কে ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের পুনর্গঠন এবং মূল্যবোধ, অধিকার ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে এক শক্তিশালী ও মহান ভারত গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ‘বিকশিত ভারত ইয়ং লিডারস ডায়ালগ’-এর উদ্বোধনী ভাষণে দোভাল বলেন, ‘এই স্বাধীন ভারত সর্বদা আজকের মত ততটা স্বাধীন ছিল না। এর জন্য আমাদের পূর্বপুরুষরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁরা প্রচণ্ড অপমান সহ্য করেছেন, গভীর অসহায় সময় দেখেছেন তাঁরা। অনেককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে… আমাদের গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে। আমাদের মন্দিরগুলি লুট করা হয়েছিল এবং আমরা অসহায়ভাবে দেখছিলাম।’
এরপর ডোভাল বলেন, ‘এই ইতিহাস আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে যে ভারতের প্রত্যেক যুবকের ভেতরে সেই আগুন থাকা উচিৎ। প্রতিশোধ শব্দটি সঠিক নয়, তবে প্রতিশোধ নিজেই একটি শক্তিশালী শক্তি। আমাদের ইতিহাসের প্রতিশোধ নিতে হবে। আমাদের এই দেশকে সেই জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে যেখানে আমরা আমাদের অধিকার, আমাদের আদর্শ এবং আমাদের বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি মহান ভারত গড়ে তুলতে পারি।’ ডোভাল আরও বলেন, ‘ভারতের প্রাচীন সভ্যতা অত্যন্ত উন্নত ও শান্তিপ্রিয় ছিল।’
ডোভাল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অতীতে নিরাপত্তা হুমকি উপেক্ষা না করে কঠিন শিক্ষা নিতে হবে। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই শিক্ষাগুলি মনে রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, ভুলে যাওয়াই দেশের জন্য সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি উন্নত সভ্যতা ছিল। আমরা কখনও কারও মন্দির ভাঙিনি। আমরা ডাকাতি করতে কোথাও যাইনি। এমনকি যখন বিশ্ব অত্যন্ত পিছিয়ে ছিল, তখনও আমরা কোনও দেশ বা বিদেশিকে আক্রমণ করিনি। কিন্তু আমরা আমাদের এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বিপদ বুঝতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা যখন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অসাবধান ছিলাম, তখন ইতিহাস আমাদের একটি শিক্ষা দিয়েছে। আমরা কি সেই শিক্ষা থেকে কিছু শিখেছি? আমরা কি সেই শিক্ষা মনে রাখব? ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যদি এই শিক্ষা ভুলে যায়, তাহলে তা হবে এ দেশের জন্য সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।’
