ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত শ্রীলঙ্কায় ত্রাণ পরিবহনের জন্য ভারতীয় আকাশসীমা (এয়ার স্পেস) ব্যবহার করার জন্য পাকিস্তানের তরফে অনুরোধ, দিল্লি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে পাকিস্তানের দাবি করেছে মঙ্গলবার। এরপর দিন গড়াতেই ইসলামাবাদের ভুয়ো দাবিকে সামনে রেখে, এই ইস্যুতে তুলোধনা করল দিল্লি।
মঙ্গলবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এটি পাকিস্তানের ‘ভারতবিরোধী ভুল তথ্য ছড়ানোর আরেকটি প্রচেষ্টা’। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রক, ইসলামাবাদের বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে, পাকিস্তান থেকে আসা অনুরোধটি ‘দ্রুত’ প্রক্রিয়া করা হয়েছে। দিল্লি সাফ জানিয়েছে, ‘আমরা পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের হাস্যকর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি, যা ভারতবিরোধী ভুল তথ্য ছড়ানোর আরেকটি প্রচেষ্টা।’ বিদেশমন্ত্রক আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে শ্রীলঙ্কায় মানবিক সহায়তা বহনকারী পাকিস্তানি বিমানের ওভারফ্লাইট ক্লিয়ারেন্সের অনুরোধ সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুর ১ টায় ইসলামাবাদে ভারতীয় হাইকমিশন পেয়েছিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবিক সহায়তার জরুরি প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে ভারত সরকার ওই দিনই দ্রুত অনুরোধটি প্রক্রিয়া করেছে। দিল্লির তরফে বলা হয়েছে, যে ‘১ ডিসেম্বর, ২০২৫ এ বিকল ৫.৩০ মিনিটে প্রস্তাবিত ভ্রমণপথ অনুসারে’ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। দিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ‘এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে সমস্ত উপলব্ধ উপায়ে শ্রীলঙ্কার জনগণকে সহায়তা’ করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে ভারত।
এদিকে, পাকিস্তানের ত্রাণ সামগ্রী শ্রীলঙ্কায় পৌঁছতেই দেখা যায়, ত্রাণ সামগ্রীর প্যাকেটের গায়ে ‘এক্সপায়ারি ডেট’ যা লেখা রয়েছে, তা পেরিয়ে গিয়েছে। তা নিয়ে ইন্টারনেটে ব্যাপক কটাক্ষের পালা চলছে। তারই মাঝে, এদিন ইসলামাবাদ তার বিবৃতিতে বলা হয়েছে,’ ভারত পাকিস্তান থেকে শ্রীলঙ্কায় মানবিক সহায়তা আটকে রাখে। শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানের মানবিক সহায়তা বহনকারী বিশেষ বিমানটি ভারতের কাছ থেকে ফ্লাইট ছাড়পত্রের অপেক্ষায় ৬০ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে বিলম্বের সম্মুখীন হয়।’ পাকিস্তান জানায়, ‘৪৮ ঘন্টা পর গত রাতে ভারত কর্তৃক আংশিক ফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স জারি করা হয়েছিল, যা কার্যক্ষমভাবে অবাস্তব ছিল, মাত্র কয়েক ঘন্টার জন্য সময়সীমাবদ্ধ এবং ফিরতি ফ্লাইটের জন্য বৈধতা ছাড়াই, শ্রীলঙ্কার ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের জন্য এই জরুরি ত্রাণ মিশনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছিল।’
