গর্ভবতী রীতাকে খেতে দিতেন না কুমার শানু

Spread the love

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে রীতা ভট্টাচার্যর সঙ্গে সাত পাক ঘুরেছিলেন কুমার শানু। কিন্তু দুজনের দাম্পত্য সুখের হয়নি। দীর্ঘদিনের তিক্ততার পরিণতি ছিল ডিভোর্স।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে গায়কের প্রাক্তন স্ত্রী অভিযোগ করেন, যখন ছোটছেলে জান কুমার শানুর তাঁর গর্ভে ছিল সেইসময় শানু ও তাঁর পরিবার রীতার উপর নির্যাতন করেছিল। তিনি আরও দাবি করেছিলেন যে কুমার শানুর বোন তাঁকে কিছু খাওয়াতেন যাতে রীতার গর্ভপাত হয়ে যায়। এইসব অভিযোগে ক্ষুব্ধ কুমার শানু। প্রাক্তন স্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তিনি।

কুমার শানুর আইনজীবী সানা রইস খান বলেছেন, ‘৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে, কুমার শানু সংগীতে তাঁর আত্মা ঢেলে দিয়েছেন, লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনাবিল আনন্দ দিয়েছেন এবং বিশ্বজুড়ে ভালবাসা এবং সম্মান অর্জন করেছেন। বেদনাদায়ক মিথ্যা এক মুহুর্তের জন্য গোলমাল তৈরি করতে পারে, তবে তারা এমন একজন শিল্পীর উত্তরাধিকার মুছে ফেলতে পারে না, যিনি আজীবন সংগীতকে দর্শকের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন’। কুমার শানুর আইনজীবী সানা বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করব যে তাঁর মর্যাদা, উত্তরাধিকার এবং পারিবারিক সম্মান রক্ষার জন্য তাকে বদনাম করার চেষ্টা আইনের পূর্ণ শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করা হবে।

রীতা জানিয়েছিলেন, জান কুমার যখন গর্ভে ছিলেন, তখন কুমার শানু তাঁকে ডিভোর্সের জন্য টেনে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন। রীতা দাবি করেন যে কুমার শানু খুব নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন এবং স্ত্রীকে বাড়ির বাইরে যেতে দিতেন না। তিনি আরও প্রকাশ করেছিলেন গায়কের বোন তাঁর নিজের স্বামী-সন্তান ছেড়ে দাদার সংসারে পড়ে থাকত। শুধু তাই নয়, কুমার শানুর সাথে একই ঘরে ঘুমাত তাঁর বোন, অন্যদিকে বাচ্চাদের সাথে অন্য ঘরে ঘুমাতেন রীতা। তিনি আরও দাবি করেছিলেন যে ভাইবোন দুজনেই তাঁর উপর নির্যাতন করেছিল। তিনি বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় শানু আমাকে আদালতে নিয়ে যায়। সেই সময় তাঁর একটি সম্পর্কও ছিল, যা আজ প্রকাশিত হয়েছে। এবং, তিনি আমাকে টেনে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন? আমি তখন খুব ছোট ছিলাম, আমার মনে হয়েছিল আমার পুরো পৃথিবী চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে, এবং আমার পরিবার হতবাক হয়েছিল। এক বছর আগে তিনি এত বড় পার্টি করেছিলেন, বলেছিলেন যে আমিই তার সাফল্যের কারণ। কারণটা জানতে পারিনি। তিনি আদালতে আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতেন এবং আমাকে নিয়ে মজা করতেন’।

রীতা আরও দাবি করেছিলেন ছোটছেলে জান গর্ভে আসার পর শানু তাঁকে খেতে দিতেন না। তিনি বলেন, ‘তারা রান্নাঘরে তালা লাগিয়ে দিত। এক মুঠো চাল কিনে বৌদির বাড়িতে খিচুড়ি রান্না করতাম, তারপর খাবার খেতাম। এমনকি তারা আমার বাচ্চাদের জন্য দুধের প্যাকেটও বন্ধ করে দিয়েছিল, আমাকে দিনে মাত্র ১০০ টাকা দিয়েছে এবং শিশুরোগ বিশেষজ্ঞকে বলেছিল যে আমরা আপনার টাকা দেব না। তাঁদেরকে মানুষ বলাটাও ভুল হবে। আমি যখন বেবি ফুড অর্ডার করতাম, তখন দোকানদার বলতেন পাঠাতে পারব না, স্য়ার বারণ করেছেন।

রীতা ও কুমার শানুর কলকাতায় দেখা হয়, প্রথম দেখাতেই প্রেম। এরপর আশির দশকের শেষের দিকে পরিবারের সম্মতি ছাড়াই বিয়ে করেছিলেন দুজনে, যদিও তাঁদের পরিবার পরে এই বিয়েকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৯৪ সালে বিবাহবিচ্ছেদের আগে এই দম্পতির তিনটি সন্তান ছিল। একটা সময় শানুর সঙ্গে এক নামী বলিউড নায়িকার ঘনিষ্ঠতার কথা চাউর হয়। পরে কুনিকা সদানন্দের সঙ্গে লিভ ইনে জড়ান কুমার শানু।

কুনিকার সাথে প্রেম-সহবাসের পর অবশেষে শালোনিকে বিয়ে করেন গায়ক। তাঁর সঙ্গেই এখন সুখী সংসার শিল্পীর। শালোনি ও শানুর দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *