গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা মানে কী?

Spread the love

গত কয়েকদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। অনেকেরই প্রশ্ন, এই গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা কী, আর কেনই বা এমন নাম দেয়া হলো। বিষয়টি এখানে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।গত প্রায় দুই বছর ধরে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরাইল। শুধু তাই নয়, ভূমধ্যসাগর পাড়ের এই ছোট্ট ভূখণ্ডের ওপর সর্বাত্মক অবরোধ করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন গাজায় তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। দেখা দিয়েছে দুর্ভিক্ষও।

সমুদ্রপথে ইসরাইলি আরোপিত সেই অবরোধ ভাঙতে এবং ফিলিস্তিনিদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেয়া হয়। যার সবশেষ ও সবচেয়ে বড় উদ্যোগ গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা।

চলতি বছরের জুলাইয়ে ইতালি থেকে গাজামুখী মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রা করা ‘হানদালা’ নামের একটি ত্রাণবাহী জাহাজ আটকে দেয়ার পর গঠিত হয় গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা, যার নেতৃত্ব দিচ্ছে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এএসি), গ্লোবাল মুভমেন্ট টু গাজা (জিএমটিজি), মাগরেব সুমুদ ফ্লোটিলা এবং সুমুদ নুসান্তারা নামে চারটি সংগঠন।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নাম সুমুদ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ অটলতা বা অবিচল সহনশীলতা—যা ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামী জীবনদর্শনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এটা মূলত একটা নৌবহর যেখানে প্রায় ৪০টিরও বেশি জাহাজ ও নৌকা অংশ নেয় এবং এসব জাহাজে ৪৪টির বেশি দেশের প্রায় ৫০০ জন কর্মী, স্বেচ্ছাসেবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব যোগ দিয়েছেন।

ফ্লোটিলায় অংশ নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সুইডেনের তরুণ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি ম্যান্ডলা ম্যান্ডেলা ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য এমা ফোরো।

জাহাজগুলোতে মূলত খাদ্য, ওষুধ, পানি ও অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী রয়েছে। ফ্লোটিলার আয়োজকরা নিজেদের উদ্যোগকে শান্তিপূর্ণ ও অহিংস মানবিক মিশন বলে জানিয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্য, গাজায় জরুরি সহায়তা পৌঁছানো এবং আন্তর্জাতিক সমাজকে অবরুদ্ধ মানুষের মানবিক সংকটের দিকে নজর দিতে বাধ্য করা।

তবে ইসরাইল শুরু থেকেই এ উদ্যোগকে ‘প্ররোচনামূলক’ ও ‘নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করে এবং যেকোনো মূল্যে এটাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়। গত মাসের শুরুর দিকে স্পেনের বার্সেলোনা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এই নৌবহর। এরপর ইতালি ও তিউনিশিয়া বন্দর থেকে আরও কিছু জাহাজ এতে যোগ দেয়।

কিন্তু যাত্রাপথে এই নৌবহরকে বারবার বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করে ইসরাইল। ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে সব বাঁধা অতিক্রম করে প্রায় এক মাসের যাত্রা শেষে ফ্লোটিলার কিছু জাহাজ গত বুধবার (১ অক্টোবর) গাজার কাছাকাছি পৌঁছায়।

এরপরই ইসরাইলি নৌবাহিনী জাহাজগুলোতে হামলা চালায় এবং জব্দ করতে শুরু করে। সবশেষ খবর পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি জাহাজ আটক করা হয়েছে। গ্রেটা থুনবার্গসহ এর স্বেচ্ছাসেবক যাত্রীদেরও আটক করা হয়েছে। তাদেরকে তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে ত্রাণবাহী জাহাজে হামলার প্রতিবাদে ইতালি, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, তুরস্ক, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ চলছে। রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তীব্র হয়েছে।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ইসরাইলের কূটনৈতিক প্রতিনিধি বহিষ্কার ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। জাহাজে ইসরাইলি হামলাকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *