যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা নিয়ে ‘যথেষ্ট হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, মার্কিন সমর্থনে অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পাওয়ার পর থেকে রদ্রিগেজকে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে। আর তা হলো, একদিকে দেশে মাদুরোর অনুগতদের পাশে রাখা, অন্যদিকে হোয়াইট হাউসকে সন্তুষ্ট রাখা।
তবে নতুন দায়িত্ব নেয়ার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিলেন ডেলসি রদ্রিগেজ। বিশেষ করে তেল উৎপাদন পুনরায় শুরু করার দাবিসহ যুক্তরাষ্ট্রের নানা চাপের পরিপ্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করলেন তিনি।
পুয়ের্তো লা ক্রুজ শহরে তেলশ্রমিকদের এক সমাবেশে রদ্রিগেজ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার রাজনীতিবিদদের ওপর ওয়াশিংটনের আদেশ ইতোমধ্যেই যথেষ্ট হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন,
ভেনেজুয়েলার রাজনীতিই আমাদের মতপার্থক্য এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সমাধান করুক। এই প্রজাতন্ত্রকে ফ্যাসিবাদ ও চরমপন্থার পরিণতির মুখোমুখি হয়ে খুব চড়া মূল্য দিতে হয়েছে।
জানুয়ারির শুরুতে এক অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার ওপর ধারাবাহিক চাপ বজায় রেখেছে। মাদুরোর সাবেক উপদেষ্টা রদ্রিগেজ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে শাসন করে না, তবে একইসঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি তর্কেও যাননি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা থেকে বিরত থাকলেও সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক জনসভায় রদ্রিগেজ বলেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রকে ভয় পায় না।
তিনি বলেন,
আমরা ভয় পাই না। আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রাখতেও আমাদের আপত্তি নেই। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে সম্মানের ভিত্তিতে।
মাদুরোকে আটকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা করবে’। পরে অবশ্য তিনি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন নেতা হিসেবে সমর্থন দেন।
চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প জানান, তিনি ফোনে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাকে একজন ‘অসাধারণ মানুষ’ বলে প্রশংসাও করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে।’