জাতীয় স্তরের কোচের কুকীর্তি ফাঁস! বিস্ফোরক বয়ান নাবালিকা শুটারের

Spread the love

জাতীয় স্তরের এক কোচের বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরের ১৭ বছরের এক শুটারের যৌন হেনস্থার অভিযোগে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যৌন নির্যাতনের বর্ণনা শুনেই শিউরে উঠেছে পুলিশ। ১৭ বছরের কিশোরীর অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে জাতীয় শুটিং কোচ অঙ্কুশ ভরদ্বাজকে। পাশাপাশি প্রশিক্ষকের পদ থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর, ফরিদাবাদের এক হোটেলে। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানিয়েছে, জাতীয় স্তরের ১৭ বছরের এক শুটারকে হোটেলের রুমে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় স্তরের প্রশিক্ষক অঙ্কুশ ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত প্রশিক্ষক অঙ্কুশকে আটক করেছে হরিয়ানা পুলিশ। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওই কিশোরী শুটারের পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছিল। গত মঙ্গলবার অভিযুক্ত প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করে জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, নয়া দিল্লিতে ড. কর্ণি সিং শুটিং রেঞ্জে জাতীয় স্তরের শুটিং প্রতিযোগিতা ছিল। সেই প্রতিযোগিতার আগেই পারফরম্যান্স মূল্যায়নের অজুহাতে কোচ অঙ্কুশ ভারদ্বাজ ওই শুটারকে ফরিদাবাদের একটি হোটেলে ডেকে পাঠান। পারফরম্যান্স কীভাবে আরও ভাল করা যায়, তা নিয়েই পরামর্শ দেবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। প্রথমে লবিতে দেখা করার কথা বলা হলেও পরে তাঁকে হোটেলের ঘরে যেতে চাপ দেওয়া হয়। সেখানেই যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে।

অঙ্কুশ ভারদ্বাজ কে?

অঙ্কুশ ভারদ্বাজ ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (এনআরএআই)-র অধীনে নিযুক্ত ১৩ জন জাতীয় পিস্তল কোচের একজন। তাঁকে এই পদে এনেছিল ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া। যৌন হেনস্থার অভিযোগের পর তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে ওই দফতর। ২০০৮ সালে কমনওয়েলথ যুব গেমসে ৫০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন অঙ্কুশ ভরদ্বাজ। দুই বছর পর ডোপ টেস্টে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে নির্বাসিত করে স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। অঙ্কুশ তখন বলেছিলেন যে তিনি হালকা মাথাব্যথার জন্য ওষুধ খেয়েছিলেন এবং পরীক্ষার ফলাফলের উপর এর প্রভাব পর্বে বলে তিনি জানতেন না। তিনি ২০১২ সালে ফের ময়দানে ফিরে আসেন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক যেতেন। অঙ্কুশ ভরদ্বাজ বর্তমানে মোহালিতে কর্মরত এবং সেক্টর ৮৬-এ সালভো শুটিং রেঞ্জ পরিচালনা করেন।

কিশোরীর বিস্ফোরক অভিযোগ

পুলিশের কাছে ওই কিশোরী জানিয়েছে, তাঁর বাবা-মা নয়ডায় থাকেন এবং সে চণ্ডীগড়ে পড়াশোনা করে। ২০১৭ সাল থেকে সে একজন শুটার হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং গত বছর অঙ্কুশ ভরদ্বাজের অধীনে প্রশিক্ষণ শুরু করে। ওই কিশোরী আরও বলেছে, শুটিং ইভেন্টের জন্য তাঁকে বেশ কয়েকটি শহরে যেতে হয়। ১৬ ডিসেম্বর, সে নয়া দিল্লিতে ড. কর্ণি সিং শুটিং রেঞ্জে জাতীয় স্তরের শুটিং প্রতিযোগিতা জন্য দিল্লিতে ছিল। খেলা শেষে পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করতে তাঁকে ফরিদাবাদের একটি পাঁচতারা হোটেলে ফোন করে ডাকেন অঙ্কুশ। প্রথমে হোটেলের লবিতে দেখা করার কথা থাকলেও, অভিযোগ অনুযায়ী কোচ তাঁকে জোর করে নিজের ঘরে নিয়ে যান। এরপর অঙ্কুশ ভরদ্বাজ তাঁকে জোর করে বিছানায় নিয়ে যান এবং যৌন হেনস্থা করেন। শেষমেশ ওই কিশোরী কোচকে ধাক্কা দিয়ে পিছনে ঠেলে দেয়। এফআইআরে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে খেলোয়াড়ের কেরিয়ার ধ্বংস করে দেওয়া এবং পরিবারের ক্ষতি করার হুমকিও দেন অভিযুক্ত কোচ। এরপর তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেন অঙ্কুশ। ভয় ও মানসিক আঘাতের মধ্যে ওই কিশোরী পরিবারের কাছে পুরো বিষয়টি জানান। এরপরই পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *