বেশ কিছু দিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল এবার বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন জুনিয়র পিসি সরকারের মেজ মেয়ে মৌবনী সরকার। মেয়েদের বিয়ের জন্য সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপণ দিয়েছিলেন জাদুসম্রাট। তারপর প্রকাশ্যে আসে মৌবনীর বিয়ের খবর। পাত্র চন্দননগরের বাসিন্দা। শোনা গিয়েছিল নভেম্বরের শেষ দিনেই শুভ লগ্নে চার হাত এক হবে। আর সেই মতোই সিঁদুরে সিঁথি ভরে উঠল নায়িকার। তিনি সীমন্তিনী হলেন।
মৌবনির বরের নাম সৌম্য রায়, তিনি চন্দননগরের বাসিন্দা। তিনি পেশায় রিসার্চ অ্যানালিস্ট। বিদেশে থাকতেন। আপাতত কলকাতাতেই কাজ করছেন।
এদিন বেগুনী রঙের বেনারসি, সোনার নেকলেস, বড় মোটা হার, সোনার চিক, টানা নথ, টিকলি, হাতে শাঁখা-পলা বাঁধানো, চুড়ি, বালা, হাতে মান্তাসা, গাল ভর্তি কল্কা, মাথায় সোনা ও শোলার মুকুট ও ভেল পরে ভীষণ মিষ্টি দেখাচ্ছিল জাদুকর কন্যাকে। হাতে তিনি রূপোর গাছকৌটো নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, সৌম্য পরনে ছিল প্রিন্টেট পাঞ্জাবি, গলায় হার, লাল ধুতি, মাথায় টোপর। প্রথমে তাঁদের আশীর্বাদ হয়। তারপর মালাবদল থেকে শুরু করে সমস্ত রীতিনীতি মেনে বিয়ে করেন তাঁরা। সৌম্য রাঙা সিঁদুরে ভরে দেন মৌবনীর সিঁথি। এদিনের অনুষ্ঠানে টলিপাড়ার অনেকেই হাজির হয়েছিলেন। দেবশ্রী রায়, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, রজতাভ দত্ত ও অর্জুন চক্রবর্তী।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন মুমতাজ সরকার, মৌবনী সরকার সেখানেই যখন তাঁদের জিজ্ঞেস করা হয় যে তাঁরা পাত্র পেলেন কিনা বিজ্ঞাপন থেকে, কবেই বা বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন তখন তাঁরা জানিয়েছেন, ‘খুব শীঘ্রই সুখবর পাবেন সকলে। তবে এখনই জানানো যাবে না।’ ফলে তখন স্পষ্ট না করলেও, ইঙ্গিত বুঝিয়ে দেন যে পাত্র নির্বাচন হয়ে গিয়েছে।

তবে মৌবনী সেদিন স্পষ্ট করে ছিলেন যে তিনি তাঁর মনের মানুষকে পেয়ে গিয়েছেন। এবং দু’জনের নিয়মিত কথাও হয়। তাহলে কি এই বছরই বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন পিসি সরকারের মেয়েরা? সেই বিষয়ে অবশ্য তখন খোলসা করেননি তাঁরা। আর এবার জানা গেল বিয়ের দিনক্ষণ।
উল্লেখ্য, পিসি সরকার জুনিয়র ও তাঁর স্ত্রী জয়শ্রী সরকারের তিন কন্যে। বড় মেয়ে মানেকা সরকার তাঁর বাবার পথে হেঁটে ম্যাজিক দেখান। মেজো এবং ছোট মেয়ে মমতাজ এবং মৌবনী দুজনেই অভিনয় দুনিয়ার পরিচিত মুখ। মানেকা সরকার ২০১২ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন। সে এক যুগ আগের কথা, টেকেনি সেই সম্পর্ক।