বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শেষযাত্রা গতকালই সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশে। সেখানে ভারতের তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তরফে এক ব্যক্তিগত চিঠি খালেদাপুত্র তারেকের হাতে তুলে দেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। চিঠিতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর এক সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে স্মৃতিচারণা করেন মোদী। এরপর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনে গিয়ে শোকবইতে শোকবার্তা প্রকাশ করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
মোদী তাঁর শোকবার্তায় লিখেছিলেন,’ তিনি (খালেদা) বাংলাদেশের উন্নয়নে এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মজবুত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।’ এরপর রাজনাথ এদিন, দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পৌঁছে তাঁর শোকবার্তায়,’ বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ভারতের সরকার ও ভারতের মানুষদের তরফে গভীর সমবেদনা’ জানান। ‘বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির প্রধান’ বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শোকবার্তায় দুই দেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে রাজনাথের বার্তায়। রাজনাথ শোকবইতে লেখেন,’ ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক পোক্ত করতে তাঁর (খালেদা জিয়ার) অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ প্রসঙ্গত, বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, নরেন্দ্র মোদী তাঁর বার্তায় কার্যত ইঙ্গিতবহভাবে বুঝিয়েছেন যে, বিএনপিতে তারেকের নেতৃত্বের ওপর আস্থা আছে দিল্লির। দুই দেশের সম্পর্ক মজবুতের কথা যেমন মোদী তাঁর চিঠিতে তুলে ধরেছেন, তেমনই সেই একই বার্তা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের লেখাতেও উঠে আসে।
হাসিনা সরকার তনের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের সম্পর্ক ঘিরে বহু চর্চা হয়েছে। এই সময়কালে ঢাকার কাছাকাছি আসতে দেখা গিয়েছে ইসলামাবাদকে। যার দিকে নজর রেখেছে দিল্লিও। এই পরিস্থিতির মাঝেই বাংলাদেশে বহু রাজনৈতিক নেতার কণ্ঠ থেকে ভারত বিরোধিতার সুরও শোনা গিয়েছে। সেই আবহে এবার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে আয়োজিত হতে চলেছে ভোট। তার আগে, নরেন্দ্র মোদী, রাজনাথ সিংয়ের বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ঢাকায় খালেদা জিয়ার শেষযাত্রায় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের উপস্থিতিও বেশ প্রাসঙ্গিক কূটনৈতিক মহলে।
