নজরে সোশ্যাল মিডিয়া! স্থগিত বহু H-1B ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট

Spread the love

এইচ-১বি ভিসার জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তরফে বলা হয়েছে, এই ভিসার আবেদনকারীদের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের ব্যক্তিগত তথ্যও ‘পাবলিক’ করতে হবে। মূল লক্ষ্য হল কড়া নজরদারি। আর এই প্রক্রিয়ার জেরে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় এইচ-১বি ভিসা আবেদনকারীর ‘ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ হঠাৎ করে স্থগিত করে পরের বছর মার্চ মাসে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভারতের অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

মার্কিন দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, ‘যদি আপনি এমন একটি ইমেল পেয়ে থাকেন যেখানে জানানো হয়েছে যে আপনার ‘ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ তারিখ পুনঃনির্ধারিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে মিশন ইন্ডিয়ার মাধ্যমে নতুন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করতে হবে।’ পাশাপাশি মার্কিন দূতাবাস সতর্ক করেছে, পুনঃনির্ধারিত তারিখের ইমেল পাওয়া সত্ত্বেও কেউ যদি কনস্যুলেটে আসেন, তবে তকে অফিসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হবে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহে যাঁদের সাক্ষাৎকার হওয়ার কথা ছিল, তাঁদের অনেকের অ্যাপয়েন্টমেন্টই মার্চ ২০২৬-এ ঠেলে দিয়েছে মার্কিন মিশন। তবে ঠিক কতজনের সাক্ষাৎকার পিছিয়েছে, তা জানা যায়নি। এদিকে, ব্যবসায়িক ইমিগ্রেশন আইনজীবী স্টিভেন ব্রাউন জানিয়েছেন, ‘মার্কিন মিশন আমাদের কাছে নিশ্চিত করেছে যে সোশ্যাল মিডিয়া ভেটিংয়ের জন্যই বহু অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করে পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।’

এইচ-১বি হল একটি অ-অভিবাসী ভিসা, যার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা সাময়িক ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সেখানকার সংস্থার হয়ে কাজ করতে পারেন। এই ভিসা নিয়ে প্রতি বছর ভারত থেকে বহু মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। কিন্তু ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরেই এইচ-১বি ভিসা নিয়ে কড়াকড়ির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। নতুন ভেটিং নীতি অনুযায়ী, এইচ-১বি এবং এইচ-৪ ভিসা আবেদনকারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁদের সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ‘পাবলিক’ রাখতে হবে। ডিসেম্বর ১৫ থেকে মার্কিন কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি খতিয়ে দেখবেন, তাঁদের জাতীয় নিরাপত্তা বা সার্বজনিক নিরাপত্তার জন্য সেসব ঝুঁকিপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা হবে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেছে, ‘ভিসা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। সিদ্ধান্তও সেই মর্মে নেওয়া হয়েছে।’ সোশ্যাল মিডিয়া নজরদারি নীতির ফলে এইচ-১বি ভিসা প্রক্রিয়ায় হল আরও কঠিন। এর আগে সেপ্টেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি ভিসার ওপর এককালীন ১ লক্ষ ডলারের অতিরিক্ত ফি চাপায়, যা ভারতীয় আবেদনকারীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। পরবর্তীতে আফগান নাগরিকের গুলির ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্ব ও অন্যান্য ভিসা প্রক্রিয়া ১৯টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ দেশ’-এর নাগরিকদের জন্য সাময়িকভাবে স্থগিত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *