নতুন বছরেই রক্তাক্ত রায়গঞ্জ! পিকনিকের মধ্যে ‘খুন’ যুব তৃণমূল নেতা

Spread the love

নতুন বছর যে ভোটের বছর তাই হয়তো জানান দিচ্ছে এই ঘটনা। ২০২৬ সাল শুরু হতে না হতেই রক্তাক্ত রায়গঞ্জ। পিকনিক চলাকালীন বাড়ির সামনেই উত্তর দিনাজপুর যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি নব্যেন্দু ঘোষকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজনৈতিক বিবাদে খুন নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাতে রায়গঞ্জের মিলনপাড়া মোহনবাটি বাজার সংলগ্ন এলাকায় বাড়ির সামনেই বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিকে মেতে ছিলেন নব্যেন্দু ঘোষ (৩৭)। কিন্তু রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ কেউ বা কারা আচমকাই তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়। সঙ্গে সঙ্গেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন যুব তৃণমূল নেতা। এরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় তড়িঘড়ি করে তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে নিয়ে যেতেই চিকিৎসকরা নব্যেন্দুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। নব্যেন্দুর বুকে একটি ক্ষত লক্ষ্য করেছেন স্থানীয়রা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তদন্তে নেমে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ এবং রাতেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রটিও। তবে কী উদ্দেশ্যে এই খুন করা হল, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য মেলেনি।

এদিকে, নব্যেন্দু ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। চলতি বছরেই বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। সেই সময়ে কে বা কারা নব্যেন্দুকে খুন করল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। নব্যেন্দুর মা বলেন, ‘ওকে ষড়যন্ত্র করে খুন করা হয়েছে।’ কান্না জড়ানো গলায় তিনি বলেন, ‘বুধবার রাতে ও আমাকে জড়িয়ে ধরে হ্যাপি নিউ ইয়ার বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। ও এখন পার্টির প্রোগ্রামে যাচ্ছিল না। দোকানদারি করছিল। কে শত্রুতা করল, আমি জানি না।’ নব্যেন্দুর বাবা প্রণবকুমার ঘোষ বলেন, ‘ও বুধবার রাত ১২টার আগে হ্যাপি নিউ ইয়ার বলতে বাড়িতে এসেছিল। এরপরে পিকনিকে চলে যায়। তারপরে কী ঘটেছে, আমি জানি না।’ অন্যদিকে, রাতে খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছান তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি রন্ত দাস-সহ অন্যান্যরা। রন্তু দাস বলেন, ‘ওঁর মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না।’

উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, ‘পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।’ শহর তৃণমূল সভাপতি শিবশঙ্কর রায় চৌধুরী বলেন, ‘এ ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ও রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় ছিল। রাজনৈতিক ভাবে ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে আমার মনে হয়। ঘটনার সঠিক তদন্ত প্রয়োজন।’ এরমধ্যেই জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোহিত সেনগুপ্তও শহরকে দুষ্কৃতীমুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন তিনি। নব্যেন্দু ঘোষ রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ফলে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিল তাঁর। রাজনীতির ঊর্ধ্বে তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা ছিল। তাঁর মৃত্যুতে জেলার রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *