নিজের দেশের মানুষ মেরে ভয় পেল ইরান?

Spread the love

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় পালটা হুঁশিয়ারি ইরানের। চলমান উত্তেজনার আবহে ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে এই অঞ্চলে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বাহিনীর ওপর হামলা চালাবে ইরানি বাহিনী। ট্রাম্পের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাগের গালিবাফ এ কথা বলেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান সরকার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির শীর্ষ স্থানীয় উপদেষ্টারাও এই বক্তব্যের বিষয়ে সতর্ক করেছেন আমেরিকাকে। তাঁদের বক্তব্য, মার্কিন হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি হুমকি’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। এই মর্মে রাষ্ট্রসংঘে ইরান একটি চিঠিও দিয়েছে আমেরিকার বিরুদ্ধে। রিপোর্ট অনুযায়ী, রাষ্ট্রসংঘে ইরানের দূত আমির সইদ ইরাভানি চিঠি লিখেছেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টের কাছে। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের কাছেও এই নিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন ইরানি দূত। ট্রাম্পের বক্তব্যের নিন্দা জানানোর জন্য নিরাপত্তা পরিষদ এবং রাষ্ট্রসংঘের কাছে আবেদন জানিয়েছে ইরান।

উল্লেখ্য, রাজধানী তেহরানসহ ইরান জুড়ে বিগ বেশ কয়েকদিন ধরেই ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। ইরানি মুদ্রার অবমূল্যায়ন সহ বিভিন্ন ইস্যুতে ইসলামি শাসকদের বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন সাধারণ মানুষ। এদের মধ্যে আবার অনেকেই সশস্ত্র। ইরানি বাহিনীকে বহু জায়গায় তাড়া করছে সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে আবার আন্দোলনকারীদের অনেককে হত্যা করেছে ইরানি বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে বহু জায়গায় দোকানদাররা ধর্মঘটে গিয়েছেন।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। ৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে কোম, ইসফাহান, মাশহাদ, হামদানের মতো শহরগুলোতে। উঠেছে সরকারবিরোধী ও শাসকবিরোধী স্লোগানও। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর যে জনরোষ ইরানের পথেঘাটে দেখা গিয়েছিল, তারপর থেকে এটাই সবচেয়ে বড় আন্দোলন সেই দেশে। এই পরস্থিতিতে ইরানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সজাগ রয়েছে আমেরিকা। এদিকে ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ বৈধ, কিন্তু যারা অস্থিরতা ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। এদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জনগণের জীবিকা নির্বাহের বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *