পথকুকুর মামলায় একগুচ্ছ অন্তর্বর্তী আবেদনের শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। তাতেই বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ বলেছে, কোন কুকুর কেমন মুডে রয়েছে, তা বোঝা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। রোগ হওয়ার আগেই প্রতিকার দরকার।
বুধবার শীর্ষ আদালতে পশুপ্রেমীদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে কুকুরপ্রেমী ও পরিবেশপ্রেমী হিসেবে এসেছি।’ এরপরেই সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন করে, ‘তাহলে অন্যান্য প্রাণীদের কী হবে? মুরগি এবং ছাগলদের কী হবে? তাদের কী প্রাণ নেই?’জবাবে সিব্বল বলেন, ‘আমি চিকেন খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি, কারণ তাদের নির্মম ভাবে খাঁচাবন্দি করে রাখা হয়। অন্যদিকে, একটি বাঘ যদি নরখাদক হয়, তা বলে সব বাঘকে নরখাদক বলে মারতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাচ-স্টেরাইলাইজ-ভ্যাকসিনেট-রিলিজ’ মডেলটি বিশ্বব্যাপী গৃহীত হচ্ছে। শহরে কুকুরের সংখ্যা প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে। এই মডেলটি সফল হয়েছে।’ এদিন দীর্ঘক্ষণ সওয়াল জবাব শোনার পরে বিচারপতিদের বেঞ্চ জানায়, ‘রাস্তাঘাট পরিষ্কার এবং কুকুরমুক্ত রাখতে হবে। কুকুররা না কামড়ালেও পথ দুর্ঘটনা ঘটে অনেক ক্ষেত্রে। রাস্তায়, স্কুলে এবং প্রাতিষ্ঠানিক এলাকায় কুকুরের প্রয়োজন আছে কী?’
এরপরেই পশুপ্রেমীদের আইনজীবী বলেন, ‘যদি কোনও কুকুর দুরন্ত বা অবাধ্য হয়ে যায়, তাকে নির্বীজকরণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। তারপরে আবার ছেড়ে দেওয়া হোক।’ এর পাল্টা জবাব দেন বিচারপতি মেহতা। তিনি বলেন, ‘এরপর তো তাহলে কুকুরদের কাউন্সেলিংও করা যেতে পারে, যাতে তারা কাউকে না কামড়ায়।’ বিচারপতি নাথও সেই মন্তব্যের সঙ্গে সায় দিয়ে প্রশ্ন করেন, ‘কখন কোন কুকুর কেমন আচরণ করবে, তা আগে থেকে কেউ কী ভাবে বুঝবেন?’ অন্যদিকে, বিভিন্ন আবাসনের বাসিন্দাদের হয়ে সওয়াল করা আইনজীবী অভীষ্টকুসুম গুপ্ত সাফ জানান, শিশুদের নিরাপত্তার জন্য কুকুরদের আবাসন থেকে বার করে দেওয়া উচিত। শুনানি পর্বে দিল্লির নেহরু পার্কে সম্প্রতি কুকুরের হামলার কথা উল্লেখ করেন বিচারপতি মেহতা। তখন সিব্বল বলেন, ‘যদি আপনি স্নেহসুলভ আচরণ করেন পশুদের সঙ্গে, তাহলে এমনটা হবে না। যদি আপনি তাদের বিরক্ত করেন, তাহলেই হামলা করবে। সময়ের অভাবে বুধবার এই মামলা সম্পূর্ণ শুনানি সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার ফের এই মামলাটি শুনবে শীর্ষ আদালতের তিন বিচারপতির বেঞ্চ।
