পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনের হামলার অভিযোগ নস্যাৎ US-র CIAর

Spread the love

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার অভিযোগ পত্রপাঠ খারিজ করে দিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে কোনও ধরনের হামলা চালায়নি ইউক্রেন, এই বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন মার্কিন গোয়েন্দারা।

মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) মূল্যায়নে পুতিনের বিরুদ্ধে কোনও হামলার চেষ্টা হয়েছে- এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিআইএ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেন ওই একই অঞ্চলে অবস্থিত একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সেটি পুতিনের বাসভবনের কাছাকাছি ছিল না। উপগ্রহচিত্র, রাডার কভারেজ এবং অন্যন্য সূত্র কাজে লাগিয়ে রুশ দাবি খণ্ডন করেছে সিআইএ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রাশিয়ার দাবিকে গুরুত্বহীন করে মনে করেন। তিনি ট্রুথ সোশ্যালে নিউইয়র্ক পোস্টের একটি সম্পাদকীয়ের লিংক শেয়ার করেন। সেখানে হামলাটি আদৌ ঘটেছে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। শিরোনামটি পুনঃপ্রচার করা হয়। বলা হয় ‘পুতিনের ‘হামলা’ নিয়ে বাড়াবাড়ি দেখায়, শান্তির পথে বাধা আসলে রাশিয়াই।’

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই পোস্টটি প্রকাশ হয় সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফের ব্রিফিংয়ের পর। তাতে তিনি গোয়েন্দা মূল্যায়ন সম্পর্কে ট্রাম্পকে অবহিত করেন। এর আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি খুবই ক্ষুব্ধ হয়েছেন যখন পুতিন টেলিফোনে দাবি করেন যে, ইউক্রেনীয় ড্রোন তার বাসভবন ‘ডোলগিয়ে বরোদি’ (লং বিয়ার্ডস)-কে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। ওই বাড়িটি উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার একটি হ্রদের তীরে অবস্থিত। ঘটনাটি নিশ্চিত হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি বলছেন হয়তো হামলাটাই ঘটেনি এটাও সম্ভব। তবে প্রেসিডেন্ট পুতিন আমাকে বলেছেন, এটি ঘটেছে।’ ইউক্রেন পূর্বে রাশিয়ার ভেতরে কিছু নাশকতা ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে পুতিন বা তার বাসভবনকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ তারা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।

কী বলছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট?

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা যে এখনও ক্ষীণ, নতুন বছরের শুরুতেই তার ইঙ্গিত দিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বর্ষবরণের রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে জেলেনস্কি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি কিছু দিনের জন্য ইউক্রেনের কয়েকটি শহর দখল করেছিল। কিন্তু বর্তমান রুশ আগ্রাসন তার থেকেও দীর্ঘস্থায়ী। তাঁর কথায়, ‘ইউক্রেন কী শান্তি চায়? অবশ্যই। কিন্তু যে কোনও মূল্যে? না।’ প্রশ্নোত্তরের ভঙ্গিতে তিনি বুঝিয়ে দেন, শর্তহীন শান্তি ইউক্রেনের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এরপরেই আরও কড়া সুরে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা কী ক্লান্ত? হ্যাঁ, খুবই। কিন্তু তার মানে কী আমরা আত্মসমর্পণ করতে প্রস্তুত? কেউ যদি সেটা ভাবে, তবে সে মারাত্মক ভুল করছে।’ এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিছু দিন আগেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছিলেন, যুদ্ধ চলবে এবং শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে রাশিয়াই। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *