‘প্রতিটি কুকুরের কামড়ের…’ রাজ্যগুলিকে সর্তক করল সুপ্রিম কোর্ট

Spread the love

রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে মৃত্যু বা জখম হওয়ার ঘটনায় এবার চরম কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এক মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে,পথ কুকুর কাউকে কামড়ালে কিংবা কামড়ের জেরে কোনও শিশু বা বয়স্কদের মৃত্যু হলে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে। তবে নিশানায় শুধু সরকারই ছিল না, পথ কুকুরকে ভালবেসে খাওয়ানো মানুষদেরও এদিন শীর্ষ আদালত ভর্ৎসনা করেছে। এই সব পথকুকুরপ্রেমীদের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়া, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ও বিচারপতি বিক্রম নাথের তিন সদস্যের বেঞ্চ এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু করে। শীর্ষ আদালত সতর্ক করে দিয়েছে, ‘প্রতিটি কুকুরের কামড়, মৃত্যু বা শিশু বা বয়স্কদের আঘাতের জন্য, আমরা সম্ভবত পদক্ষেপ না করার জন্য রাজ্যকে উচ্চহারে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করব।’ যারা কুকুরদের নিয়মিত খাবার খাওয়ান, তাঁদের উদ্দেশ্যে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বলেছে, ‘আপনারা ওদের (কুকুরদের) নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান, সেখানেই রাখুন। কেন ওদের রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেওয়া হবে? কুকুরের কামড়ের প্রভাব সারাজীবন থেকে যায়।’ শুনানি চলাকালীন একটি মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে আদালত প্রশ্ন তোলে, ‘যখন কোনও নির্দিষ্ট সংস্থার খাওয়ানো কুকুরের কামড়ে ৯ বছরের শিশুর মৃত্যু হয়, তখন সেই সংস্থাকে কেন ক্ষতির জন্য দায়ী করা হবে না?’

‘কুকুরের মুড বোঝা অসম্ভব’

গত ৭ জানুয়ারির শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল যুক্তি দিয়েছিলেন যে, প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতি দেখালে তারা আক্রমণ করে না। তিনি বলেন, ‘যদি আপনি ওদের এলাকায় অনধিকার প্রবেশ করেন, তবেই ওরা আক্রমণ করবে।’ কিন্তু এই যুক্তিতে সায় দেয়নি শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বিক্রম নাথ পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কী করে বুঝবেন? সকালে কোন কুকুর কোন মেজাজে আছে, তা বোঝা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।’ কেবল কামড়ানো নয়, রাস্তায় কুকুরের কারণে তৈরি হওয়া আতঙ্ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাস স্ট্যান্ড, স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং রেলওয়ে স্টেশন থেকে পথ-কুকুর অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় পড়ে যায়। একই সঙ্গে বেঞ্চ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় যে, কুকুরগুলিকে সরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত নয়। আরও বলা হয়েছে যে কুকুরগুলিকে যেখান থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, জীবাণুমুক্তকরণ এবং টিকাদানের পর সেই জায়গায় আবার ছেড়ে দেওয়া হবে না। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে, সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে বলেছিল যে, দিল্লি এবং সংলগ্ন অঞ্চলের সমস্ত বেওয়ারিশ কুকুরকে আবাসিক এলাকা থেকে দূরে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করতে হবে। কুকুরের কামড়ের ফলে জলাতঙ্ক রোগ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের এই আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *