পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার ঘটনার দগদগে ঘা দেশবাসীর হৃদয়ে বর্তমান। এই আবহে সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে রাজধানী তথা গোটা দেশকে। যত দিন যাচ্ছে ততই দিল্লিকাণ্ডে একটার পর একটা রহস্য উন্মোচন হয়েছে। দেশজুড়ে তদন্ত চালাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। এরমধ্যেই দিল্লি বিস্ফোরণ-কাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বললেন, ‘দেশে হোয়াইট কলার সন্ত্রাসবাদের উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা দিচ্ছে।’ সেখানে উচ্চ শিক্ষিত লোকেরা সমাজবিরোধী এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে।
গত বছর ১০ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাতে অন্তত ১৫ জন প্রাণ হারান। ওই ঘটনায় যাঁরা ধরা পড়েছেন, তদন্তে দেখা গিয়েছে, তাঁরা অনেকেই পেশায় চিকিৎসক। সেই সূত্র ধরেই শুক্রবার ভোপাল নোবেলস বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে রাজনাথ সিং বলেন, ‘আজ, দেশে হোয়াইট কলার সন্ত্রাসবাদের এক উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। উচ্চ শিক্ষিত লোকেরা সমাজ ও দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে।’ তিনি আরও বলেন, (দিল্লি) বোমা বিস্ফোরণের অপরাধীরা ছিলেন চিকিৎসক- যাঁরা প্রেসক্রিপশনে ‘আরএক্স’ লেখেন, তাঁদের হাতে এখন ‘আরডিএক্স’ থাকে। এটা জ্ঞানের সঙ্গে মূল্যবোধ এবং চরিত্রের প্রয়োজনীয়তার দিকটিও তুলে ধরে। শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পেশাগত সাফল্য নয়, বরং নৈতিকতা, নীতিবোধ এবং মানবিক চরিত্রের বিকাশও।’
দিল্লিকাণ্ডে বিস্ফোরক বোঝাই একটি আই-২০ গাড়ি ব্যবহার করা হয়, যা চালাচ্ছিল ডা. উমর উন নবি। পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে একটি ‘হোয়াইট কলার’ সন্ত্রাসী চক্রের অস্তিত্ব। সেই সূত্র ধরে গ্রেফতার হয় আরও তিন চিকিৎসক মুজাম্মিল গনাই, আদিল রাদার ও শাহিন সইদ-সহ একাধিক অভিযুক্ত। সেই প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদ মানেই অশিক্ষিত মানুষের কাজ এই ধারণা ভুল। অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীরাই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, কারণ তাদের মধ্যে প্রজ্ঞা ও নৈতিকতার অভাব থাকে। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকেও আলোকপাত করেন রাজনাথ সিং। তিনি জানান, ভারত বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তৃতীয় স্থানে পৌঁছনোর পথে এগোচ্ছে। এই যাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, দিল্লির বিস্ফোরণকাণ্ডের ঠিক আগে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছিল। ওই দুই ঘটনার সঙ্গেই বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের যোগ পাওয়া যায়। তারপর থেকেই চিকিৎসকদের নিয়ে তৈরি জঙ্গিদের একটি মডিউল তদন্তকারীদের নজরে ছিল। ফরিদাবাদ ‘মডিউল’-এর যাঁরা ধরা পড়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে প্রথম গ্রেফতার হয় কাশ্মীরের অনন্তনাগের বাসিন্দা চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাদার। সেই সূত্র ধরেই শ্রীনগর, অনন্তনাগ, শোপিয়ানে তল্লাশি চালানো হয়। এছাড়া, হরিয়ানা পুলিশের সহযোগিতায় ফরিদাবাদে এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সহযোগিতায় সাহারানপুরেও হানা দিয়েছিলেন কাশ্মীরের তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, আদিলকে জেরা করেই পুলওয়ামার বাসিন্দা মুজাম্মিল শাকিল গণির নাম উঠে আসে। পেশায় চিকিৎসক মুজাম্মিল কর্মসূত্রে হরিয়ানার ফরিদাবাদে থাকত ভাড়া বাড়িতে। তদন্তকারীদের অভিযানের সময়ে একটি গাড়ি থেকে একে-৪৭ পাওয়া গিয়েছিল। সেই গাড়িটি ছিল চিকিৎসক শাহিন সইদের নামে।