দিল্লির লালকেল্লার কাছে গত নভেম্বরে বিস্ফোরণ কাণ্ডে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে এনআইএ। উল্লেখ্য, এই বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছিল চিকিৎসক উমর নবির। বিস্ফোরক পেতেই গ্রেফতার হয়েছে মুজ্জামিল গনি, আদিল রেদাররা।ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ-র তদন্তে জানা গিয়েছে, দিল্লি বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত ‘চিকিৎসক সন্ত্রাসী মডিউল’ বা ‘হোয়াইট কলার মডিউল’র সদস্যরা তাদের পাকিস্তানি হ্যান্ডেলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ফোন ঘিরে একটি ‘ভুতুড়ে সিম’ দিয়ে চোখে ধুলো দেওয়ার প্ল্যান ফেঁদে ছিল। কোন প্যাঁয়তারা তারা চালিয়েছিল?
দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে অভযুক্তদের ফোন ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। দেখা যাচ্ছে, অভিযুক্তদের ফোন সম্পূর্ণ রূপে ‘পরিচ্ছন্ন’, অর্থাৎ সেখান থেকে সন্দেহজনক কিছু নেই। দিল্লি বিস্ফোরণের অভিযুক্তরা নিজেদের নামে যে ফোন নিয়েছে, সেই সমস্ত ডিভাইস দিয়ে তারা কেবলই পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের প্রয়োজনীয় ফোন করত। তবে, একটি নয় তাদের হাতে আস একাধিক ফোন। যে সমস্ত ফোন ‘ভুতুড়ে’ সিম কাজে লাগিয়ে তারা ব্যবহার করত সন্ত্রাসী কাজের জন্য। আর সেই ভুতুড়ে সিম ব্যবহার করেই তারা পাকিস্তানে হ্যান্ডেলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।
ইতিমধ্যেই দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানি হ্যান্ডেলরারা ‘কোড নেম’ নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগ রাখত। এই কোড নেম-ধারী পাকিস্তানি হ্যান্ডেলার হিসাবে উকাসা, ফয়জান, হাশমি নামগুলি উঠে এসেছে। এই উকাসাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দিল্লি বিস্ফোরণের অভিযুক্তরা নিজেদের নামে কেনা ফোন বাদে অন্য ফোন ব্যবহার করত। অন্য ফোন থেকে হোয়াটস অ্যাপ, টেলিগ্রামে তারা পাকিস্তানি হ্যান্ডেলারদের সঙ্গে যোগ রাখত। সেই সমস্ত ফোনে যে সিম ব্যবহার হয়েছে, তা সন্দেহজনক নন এমন নাগরিকদের আধারকার্ডের তথ্য অপব্যবহার করে অভিযুক্তরা হাতে পায় বলে খবর।
সদ্য জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ একটি এমন গ্যাং-র হদিশ পেয়েছে, যেখানে জাল আধারকার্ড ব্যবহার করে সিমের কারবার চলত। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি একটি প্রবণতা লক্ষ্য করেছে যেখানে এই ক্ষতিগ্রস্ত সিমগুলি পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) বা পাকিস্তানের সীমান্তের ওপারে মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলিতে সক্রিয়।

তদন্তে জানা যাচ্ছে, ডিভাইসে ফিজিক্যাল সিম ছাড়াই মেসেজিং অ্যাপগুলিকে চালানোর অনুমতি দেয় এমন বৈশিষ্ট্যগুলি কাজে লাগিয়ে, ইউটিউবের মাধ্যমে IED জড়ো করা সহ নানান নশকতার কাজ শেখার জন্য নির্দেশ দিল পাকিস্তানি হ্যান্ডলাররা।