বাংলাদেশে পরিত্যক্ত ব্যাগে IED উদ্ধার! নিষ্ক্রিয় করতেই…

Spread the love

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাসখানেক বাকি। ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততোই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ওপার বাংলা। শনিবারই ফরিদপুর শহরের আলীপুর ব্রিজ এলাকায় পরিত্যক্ত একটি ব্যাগ থেকে শক্তিশালী রিমোট কন্ট্রোল বোমা উদ্ধার করে যৌথবাহিনী। এ ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বিশেষ প্রক্রিয়ায় বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। যার জেরে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

জানা গেছে, রবিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ শহরের গোয়ালচামট প্রতিমা বিসর্জন ঘাট এলাকায় কুমার নদের পাড়ে বোমাটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়। ঢাকা থেকে আসা এটিইউ’র ১০ সদস্যের বোমা ডিসপোজাল দল এ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এটিইউ বোমা ডিসপোজাল দলের পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ বলেন, উদ্ধার করা বোমাটি একটি শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস), যা রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। এটি সাধারণ বোমার তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী। সময়মতো নিষ্ক্রিয় না করা গেলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল।

এলাকায় আতঙ্ক

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশেষ নিরাপত্তা পোশাকে বোমা ডিসপোজাল দলের সদস্যরা বালির বস্তা ও বুলেটপ্রুফ সরঞ্জাম দিয়ে ঘিরে রাখা বোমাটির কাছে যান। পরে নতুন তার সংযুক্ত করে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ মিটার দূর থেকে ইলেকট্রিক সংযোগের মাধ্যমে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দে প্রায় ২০ ফুট উঁচুতে ধোঁয়া এবং প্রায় ৫০ ফুট পর্যন্ত স্প্লিন্টার ও ধাতব অংশ ছিটকে পড়ে। পরে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায় এটিইউ।

বিস্ফোরক উদ্ধার

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর শহরের কুমার নদের উপর আলীপুর সেতুর দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে পাঠখড়ির স্তূপের ভেতরে একটি নীল রঙের স্কুল ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা সন্দেহ প্রকাশ করেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগটি তল্লাশি করে টেপ মোড়ানো বোমা সদৃশ বস্তু শনাক্ত করে। নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনীর বিশেষ সদস্যরা বিস্ফোরকটি উদ্ধার করে সেতুর প্রায় ৩০০ মিটার দূরে বিসর্জন ঘাট এলাকায় নিয়ে গিয়ে বালির বস্তা দিয়ে ঘিরে রাখেন। রাতভর সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন থাকে এবং সেতু ও নদীর দুই পাড়ে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

শহরজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমির হোসেন জানান, গোপন খবর ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বোমাটিকে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে সেতু এলাকায় রেখেছে-তা উদঘাটনে তদন্ত চলছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার পর থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলিতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ব্যস্ত রাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে এমন শক্তিশালী বোমা উদ্ধারের ঘটনায় শহরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদার হলেও দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু তাই নয়, এই সব ঘটনায় সারাদেশে অজানা আশঙ্কার ভয়ে রয়েছেন আমজনতা। আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে ভোটদান নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *