বিদায়বেলায় বাহিনীকে একগুচ্ছ টিপস রাজীব কুমারের

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যের পুলিশের প্রধান তিনি। সামলাতে হয়েছে একাধিক ঝড়। পড়েছেন বিরোধীদের আক্রমণের মুখেও। রাজ্য পুলিশের সেই ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমার অবসরে আগে উদ্বুদ্ধ করলেন নিজের বাহিনীকে। পুলিশ হিসেবে কঠোর পরিস্থিতি মোকাবিলা করার উপায় থেকে শুরু করে ভৌগোলিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান নিয়েও বিস্তারিতভাবে বলেন। আলিপুর বডিগার্ড লাইনে বিদায়ি প্যারেডের মধ্যেই রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি জানান, পুলিশের প্রথম গুণটাই হল সাহস। কাজের সময় অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশকে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়। মুখোমুখি হতে হয় কঠিন চ্যালেঞ্জের। আর সেই কঠিন পরিস্থিতি এবং চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার জন্য সবসময় সৎসাহস থাকতে হয়। তাহলেই যে কোনও পরিস্থিতি সামলানো যাবে বলে দাবি করেন রাজ্য পুলিশের বিদায়ি ভারপ্রাপ্ত ডিজি।

‘সাহসের অর্থ হল রুখে দাঁড়ানোর ক্ষমতা’

আর ‘সাহস’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন, সেটাও রাজ্য পুলিশের ডিজি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সাহসের অর্থ হল রুখে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। নিজে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটায় অবিচল থাকাই আদতে সাহসিকতার পরিচয় তুলে ধরে বলে দাবি করেছেন।

‘ভারতের এমন কোনও রাজ্য নেই, যেটির সঙ্গে তিনটি দেশের সীমান্ত আছে’

সেই রেশ ধরে ডিজি জানান, ভৌগোলিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ এমন জায়গায় রয়েছে যে রাজ্য পুলিশকে কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবেই। কর্মজীবনে সেরকম পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে রাজ্য পুলিশের অফিসারদের। কারণ বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভুটানের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত আছে। ওই দেশগুলিতে যদি কোনও ঘটনা ঘটে, তার আঁচ পশ্চিমবঙ্গের উপরে এসে পড়ে। একইভাবে উত্তর-পূর্ব ভারতে কোনও ঘটনা ঘটলে সেটার প্রভাব আসে পশ্চিমবঙ্গের উপরেও। ভারতের এমন কোনও রাজ্য নেই, যেটির সঙ্গে তিনটি দেশের সীমান্ত আছে। আর ভৌগোলিক দিক থেকে এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অবস্থিত হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে চ্যালেঞ্জ বেশি বলেও জানান রাজ্য পুলিশের বিদায়ি ভারপ্রাপ্ত ডিজি।

‘মুখে নয়, কাজে করে দেখাতে হবে পুলিশের দক্ষতা’

তা সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশ যেভাবে কাজ করে চলেছে, তার প্রশংসা শোনা যায় বিদায়ি ভারপ্রাপ্ত ডিজির গলায়। তিনি দাবি করেন, মুখে কিছু বলার থেকে কাজে করে দেখানো অনেক ভালো। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ দেশের অন্যতম সেরা বাহিনী। মাওবাদী সমস্যার সমাধান, পুজো সামলানো, গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ন্ত্রণের মতো একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সামলে সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। আগামিদিনেও সেটা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *