নতুন বছর পড়তেই ছাব্বিশের মহারণের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আর কয়েকমাসের মধ্যেই বঙ্গ ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। আর তার ঠিক আগেই সক্রিয় রূপে ধরা দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। দীর্ঘ ৬ মাসের ‘শীতঘুম’ থেকে বেরিয়েই এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা নিয়ে ইঙ্গিতবাহী বার্তা দিলেন তিনি। আগামী সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বৈঠক রয়েছে। তার আগেই দিলীপ বলেন, ‘বুথের বাইরে নয়, বুথের ভিতর কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে নির্বাচন করা উচিত।’ আর বিজেপি নেতার এই দাবিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জল্পনা তুঙ্গে রাজ্য-রাজনীতিতে।
প্রতিদিনের মতোই শনিবার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর আবারও বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। এই আবহে আসন্ন ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে বড় দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার দাবি করে এসেছি যে বুথের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখতে হবে। ওরা দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তায়। ভোট লুটপাট হয়, বুথের ভিতরে। আমাদের সামনেই এই ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। এবার যদি সত্যিই অন্যরকম কিছু হয় তাহলে মানুষ নিশ্চিন্তে ভোট দিতে যাবে। তাহলে তৃণমূলের টেকা মুশকিল।’ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ করে দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক দাবি, ‘বাহিনী যথেষ্ট সংখ্যক আসে। পঞ্চায়েত ভোটেও পর্যাপ্ত বাহিনী এসেছিল। তারা বাসে চেপে ঘুরে বেড়ায়, হাজারদুয়ারি দেখতে যায়। আমাদের বক্তব্য নতুন ভোটার আই কার্ড ছাড়া কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। বুথে কি হচ্ছে সেটাও বাহিনী দেখবে। তাহলেই নিরপেক্ষ ভোটাধিকার সম্ভব।’
বিজেপি নেতার দাবি, বাইরে যেমন কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে আই কার্ড চেক করার জন্য, তেমনই ভিতরেও নজরদারি চালাতে হবে। এমনটা হলে ভোটের শতাংশও বাড়বে এবং তৃণমূলের টেকা মুশকিল হবে। আগামী সোমবারই জাতীয় নির্বাচন কমিশনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বৈঠক। তার আগে ভোটমুখী বাংলায় দিলীপের এই দাবি যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাহলে কী এবারের নির্বাচন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপের হবে? উঠছে সেই প্রশ্নও। আগামী ৬ তারিখ থেকে দিলীপ ঘোষকে রাজনৈতিক সভা করতেও দেখা যাবে। তবে দিলীপ ঘোষের এই দাবিতে বিচলিত নয় শাসক দল তৃণমূল। তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘তৃণমূলের শাসন মানুষ দেখেছে। বাহিনী তো ভোট দেবে না, মানুষই ভোট দেবে। কোনও সমস্যা নেই।’
প্রসঙ্গত, গত কয়েকটি নির্বাচনে বাংলায় তেমন করে থাবা বসাতে পারেনি গেরুয়া শিবির। তাই এবারের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে রণযুদ্ধে নেমে পড়েছেন বিজেপির সমস্ত ছোট-বড়ো নেতারা। সেই সঙ্গেই দিল্লির নির্দেশে একটু একটু করে শুরু হয়েছে ঘর গোছানোর ছক। এই অবস্থায় ছাব্বিশের ভোট বৈতরণী পার করতে দিলীপ ঘোষকে ফের ফ্রন্টে নিয়ে এসেছে দিল্লির বিজেপি শিবির। আর শাহী টনিকে চাঙ্গা হয়েই তৃণমূলকে নিশানা করে নিয়েছেন দিলীপ। এবার এর মধ্যেই তাঁর কেন্দ্রীয় বাহিনী তোলা দাবিকে ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা।
