বোমাবাজিতে হারিয়েছেন মেয়েকে! ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ অবসাদগ্রস্ত তামান্না মা-এর

Spread the love

সন্তান হারানোর শোক যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা প্রকাশ করা বড়ই কঠিন। তছনছ করে দেয় বাবা মায়ের জীবন, আর এমনই এক যন্ত্রণায় দিন কাটছে নদিয়ার কালীগঞ্জের নিহত নাবালিকা তামান্না খাতুনের মা সাবিনা ইয়াসমিনের। চলতি বছরের ২৩ জুন নদিয়া কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে ফল ঘোষণার দিন তৃণমূলের বিজয়োৎসব থেকে ছোড়া বোমায় মারা যায় নাবালিকা তামান্না খাতুন। সেই ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তামান্নার মা। আর তার জেরেই এবার আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত

চলতি বছরের ২৩ জুন, কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়। বিপুল ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আলিফা আহমেদ জয়ী হন। আর তাই বিজয় উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ই ঘটে যায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। মৃত্যু হয় ছোট্ট তামান্না খাতুনের। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে মামলা চলছে। তবে পরিবারের দাবি, মোট ২৪ জন অভিযুক্ত, কিন্তু অনেকেই এখনও ধরা পড়েনি, আর এটাই তাঁদের সবচেয়ে বড় ভয়। পরিবারের কথায়, পুলিশের তদন্তে নিষ্ক্রিয়তায় তাঁদের ভরসা কমে গিয়েছে। যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁরাও আদালত থেকে জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন, এই আশঙ্কা তাড়া করছে পরিবারকে। তামান্নার আত্মীয়দের দাবি, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই কারণে আতঙ্কে ভুগছিলেন তামান্নার মা সাবিনা। প্রতিদিন চিন্তা করতেন, মেয়ের খুনিরা শাস্তি পাবে তো? নাকি আবার তাঁদের পরিবারের ওপর হামলা হতে পারে?

আত্মহত্যার চেষ্টা

তীব্র মানসিক চাপে দিন কাটছিল তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনের। পরিবারের দাবি, রাতে খাবারের পর সাবিনা একাধিক ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত পলাশী মীরা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। তামান্নার কাকা রবিউল শেখ বলেন, ‘মেয়ের মৃত্যুর পর থেকেই তামান্নার মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ২৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে অনেকেই বাইরে ঘুরছে। যাদের ধরা হয়েছে তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার হামলা করতে পারে, এই ভয়েই দিন কাটছে। সেই চাপেই উনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেন। অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপরই আমরা হাসপাতালে নিয়ে আসি।’ এই আবহে পরিবারের দাবি, দ্রুত বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা না হলে তাঁরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন না। তামান্নার মৃত্যুর ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় দিন কাটছে শোকাহত পরিবারের।গত জুলাই মাসে মেয়ের মৃত্যুর সুবিচার চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীগঞ্জের নিহত তামান্না খাতুনের পরিবার। সূত্রের খবর, উচ্চ আদালতের কাছে সিবিআই তদন্ত চেয়েছে পরিবার। কিন্তু তারপরও পেরিয়েছে বহুদিন, সেই নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এদিকে, দিনের পর দিন অপেক্ষা করে চলেছে পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *