সম্প্রতি ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সাক্ষর হয়েছে। যা বুকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। তবে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয় সীমান্তের অপারেও থরহরিকম্প। হাঁটু কাঁপছে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশেরও।
আতঙ্কিত পাকিস্তান
পাকিস্তান থেকে বহু পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে রপ্তানি হয়। বিশেষ করে বস্ত্র এবং পোশাক। এই দুই শিল্পের আয় অনেকটাই নির্ভরশীল ইউরোপের বাজারের উপর। ইইউ-এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে এবার পাকিস্তানের রাপ্তানিতে থাবা বসানোর অপেক্ষায় ভারত। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের জেরে ভারতের শ্রম-নিবিড় খাতগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তির ফলে এবার সেই লোকসান অনেকটাই মেটানো সম্ভব বলেও মনে করছে নয়া দিল্লি। এই মুহূর্তে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে শাহবাজ শরিফ সরকার। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ টি দেশ পাকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। কিন্তু ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের ফলে সেই দেশের বার্ষিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৮.২৫ লক্ষ কোটি টাকা) ঝুঁকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়বে পাকিস্তানের বস্ত্র এবং পোশাক শিল্প।
শুক্রবার পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে পাক রপ্তানির উপর যে কোনও প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য ইসলামাবাদ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তাছাড়া, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য তাড়াতাড়ি আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রক বৈঠকও করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত ইইউ-র রাষ্ট্রদূতের মধ্যে বৈঠকের পর এটা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রসঙ্গে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিকভাবে এবং ব্রাসেলসে ইইউ সদর দফতরের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।’

পাকিস্তান কেন প্রমাদ গুনছে?
ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্যের সময়সীমা পাকিস্তানের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। কারণ এই চুক্তির ফলে ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। ভেঙে পড়তে পারে পাক অর্থনীতি। বিশ্বব্যাঙ্কের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তানের রপ্তানি অংশ ১৯৯০-এর দশকে জিডিপির ১৬ শতাংশ থেকে অনেকটা কমে ২০২৪ সালে প্রায় ১০ শতাংশ হয়েছে। ভারত-ইইউ চুক্তি ইউরোপীয় বাজারে পাকিস্তানের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে দুর্বল করে দেবে। পাকিস্তান ইইউ-তে জেনারেলাইজড সিস্টেম অফ প্রেফারেন্সেস প্লাস (জিএসপি+) মর্যাদা ভোগ করে। এর জেরে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা তাদের রপ্তানির প্রায় ৬৬ শতাংশ বা দুই-তৃতীয়াংশের উপর ইইউ বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায়। ২০১৪ সালে প্রদত্ত জিএসপি+ মর্যাদার অধীনে, পাকিস্তান ইউরোপে তার টেক্সটাইল রপ্তানি ১০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ২৭ সদস্যের ইইউ জোট প্রতি বছর পাকিস্তানের টেক্সটাইল রপ্তানির প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪০ শতাংশ অবদান রাখে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পাকিস্তানের জন্য জিএসপি+ মর্যাদা আগামী বছর শেষ হবে।