গদ্দারের মাধ্যমে টাকা যায় অমিত শাহের কাছে। আইপ্যাক দফতর ও সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি-এর সাম্প্রতিক অভিযানের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বিকেলে যাদবপুর ৮বি থেকে হাজরা পর্যন্ত, ৭ কিলোমিটার পথ মিছিল করে রণংদেহি মেজাজে ধরা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর মিছিল শেষে হাজরায় জনসভা থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর কাছে এমন সব তথ্য রয়েছে যা প্রকাশ করলে বিজেপির ‘ভাণ্ডা ফাঁস’ হয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার থেকেই কয়লা-কাণ্ডের প্রেক্ষিতে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের সূত্রে আইপ্যাকে তল্লাশি নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর শুক্রবার হাজরা মোড়ের সভা থেকে সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে কয়লার টাকা খাওয়ার অভিযোগ তুললেন তিনি। সেই সঙ্গে নিশানা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কেও। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কয়লার টাকা খান অমিত শাহ। গদ্দারের সূত্রে টাকা যায়। গদ্দার পালিত পুত্র এখন। সঙ্গে আছেন জগন্নাথ। জগন্নাথ বিজেপির বড় ডাকাত। জগন্নাথের থেকে টাকা যায় শুভেন্দু অধিকারীর কাছে, আর সেখান থেকে টাকা যায় শাহের কাছে।’ এই সূত্রেই মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর কাছে বিজেপির অনেক নেতার গোপন নথিপত্র এবং তথ্য সম্বলিত পেনড্রাইভ রয়েছে। তাঁর দাবি, ‘আপনাদের ভাগ্য ভাল, আমি চেয়ারে আছি বলে পেন ড্রাইভগুলো বার করে দিই না। সব পেন ড্রাইভে আছে। বেশি হলে, ফাঁস করে দেব। একটা জায়গা পর্যন্ত সৌজন্য বজায় রাখি। লক্ষণের গণ্ডি পেরিয়ে গেলে সামলাতে পারবেন না। অনেক কিছু জানি, বলি না দেশের স্বার্থে। আমি মুখ খুললে পৃথিবীতে হইচই হবে। করি না, দেশকে ভালবাসি বলে। কিন্তু এটা দুর্বলতা নয়।’

বৃহস্পতিবার আইপ্যাক দফতরে ইডি হানা চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজে সেখানে উপস্থিত হয়ে ল্যাপটপ ও ফাইল বের করে এনেছিলেন। সেই পদক্ষেপকে সমর্থন করে এদিন তিনি বলেন, ‘কাল যা করেছি কোনও অন্যায় করিনি। ওটা আমাদের পরামর্শদাতা সংস্থা, সেখানে আমাদের রাজনৈতিক নথিপত্র থাকে। সেগুলো চুরি করতে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। আমরা চাইলে অনেক কিছু করতে পারতাম, কিন্তু আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াই করি।’ তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, তৃণমূলের নির্বাচনি রণকৌশল হাতাতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি একের পর এক ইস্যুতে বিজেপিকে তুলোধনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাকে আঘাত না করলে আমি ঘুমিয়ে পড়ি, রামকৃষ্ণ বা কৃষ্ণ উপকথা শুনি। যদি আমাকে আঘাত করে, তাহলে পুনর্জীবন পাই। গতকাল আমি প্রাণ পাই। কী করবে, আমাকে জেলে ভরবে?’ এদিন হাজরায় পৌঁছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার দলের কর্মীরাই আমার সম্পদ। আমার ডেডিকেটেড কর্মী। এসআইআর সেন্টারে ডেকে পাঠানো হচ্ছে। নথি নিচ্ছে কিন্তু পাল্টা নথি দিচ্ছে না। অন্ত:সত্ত্বা মা-কে ডেকে পাঠাচ্ছে। নাকে নল লাগানো অবস্থায় ডেকে পাঠিয়ে অত্যাচার করছে। জুমলা, অত্যাচারী, অনাচারী, দুরাচারী, ব্যাভিচারী, স্বৈরাচারী পার্টি। এরা পার্টি না দোপাটি।’