মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার সেই দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)।তবে, অজিত পাওয়ারের কাকা এবং এনসিপি-এসপি প্রধান শরদ পাওয়ার জানান, এ বিষয়ে পাওয়ার পরিবারের সাথে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান অজিত পাওয়ার।
১৯৬৩ সালে ধারাশিব (পূর্বে ওসমানাবাদ) এর একটি কৃষক পরিবারে জন্ম নেন সুনেত্রা পাওয়ার। তিনি মহারাষ্ট্রের প্রথম নারী উপ-মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। বুধবার সকালে বিমান দুর্ঘটনায় তার স্বামী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর, পদটি শূন্য হয়ে যায়। তবে একটি শর্ত রয়েছে, সুনেত্রাকে ছয় মাসের মধ্যে রাজ্য আইনসভায় (একজন বিধায়ক বা এমএলসি হিসেবে) নির্বাচিত হতে হবে।
এদিকে, অজিত পাওয়ারের উত্তরসূরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া থেকে শরদ পাওয়ারকে দূরে রাখা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সিনিয়র পাওয়ার বলেন, ‘আমি জানি না।’
শরদ পাওয়ারের এই মন্তব্য থেকে রাজনীতি এবং পরিবারের মধ্যে একটি বিরোধ ফুটে ওঠে। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে, অজিত পাওয়ার তার চাচা শরদ পাওয়ারের সঙ্গ থেকে সরে এসে নিজে আলাদা রাজনৈতিক পথ তৈরি করেন। এরপর এনসিপি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
এদিকে, শরদ পাওয়ার দাবি করেছেন, শনিবার সন্ধ্যায় শপথগ্রহণের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না এবং সংবাদমাধ্যমের খবরে তিনি তা জানতে পেরেছেন।

বারামতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে পাওয়ার পরিবারের কেউ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন কিনা জানতে চাইলে শরদ আরও বলেন, ‘আমরা শপথগ্রহণের বিষয়ে জানি না। আমরা সংবাদ মাধ্যমে এটি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। শপথগ্রহণ সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই।’
অন্যদিকে, শুক্রবার এনসিপি (এসপি) নেতা অঙ্কুশ কাকাড়ে বলেন, অজিত পাওয়ার তার কাকা শরদ পাওয়ারের জন্মদিনে (১২ ডিসেম্বর) ‘পুনর্মিলন’ দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই সময়ে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
কাকাড়ের মতে, অজিত পাওয়ার তাকে এবং অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের যাদের শরদ পাওয়ারের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে তাদেরকে ‘পুনর্মিলন’ হওয়ার জন্য মধ্যস্থতা করতে অনুরোধ করেছিলেন।বুধবার এনসিপি প্রধান অজিত পাওয়ার মুম্বাই থেকে বারামতি যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় ভিএসআর ভেঞ্চার্সের মালিকানাধীন এবং পরিচালিত একটি ছোট বিমান, লিয়ারজেট ৪৫, জরুরি অবতরণের চেষ্টার সময় বিধ্বস্ত হয়। পাওয়ার ছাড়াও, বিমানে আরও চারজন ছিলেন তারাও মারা যান।