মহারাষ্ট্র পুর নির্বাচনে ৬৬টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী BJP-শিবসেনা জোট

Spread the love

গল্প হলেও সত্যি! মহারাষ্ট্রে বহু প্রতীক্ষিত পুরসভা নির্বাচনে একটি ভোট পড়ার আগেই বিজেপি-শিবসেনা (মহায্যুতি) জোট ৬৮টি আসনের ৬৬টি আসনে এবং অজিত পাওয়ারের এনসিপি দু’টি আসনে জয়লাভ করেছে। শুক্রবার ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। তারমধ্যেই অন্যান্য দল ও জোটের বেশ কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন, যার ফলে এই ৬৮ জন নেতার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথ সুগম হয়।

যদিও শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে) এবং মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বিরোধী প্রার্থীদের টাকা ও হুমকির মাধ্যমে মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করার অভিযোগ তুলেছে। এরমধ্যেই আগামী ১৫ জানুয়ারি নির্ধারিত পুরসভা নির্বাচনের আগে চাপ বা অর্থের প্রভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার জন্য তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। এদিকে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাওয়া ৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৪ জন বিজেপির, ২২ জন শিবসেনার, দু’জন এনসিপি-র এবং একজন নির্দল প্রার্থী রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি জয় এসেছে মুম্বই মেট্রোপলিটন অঞ্চলের (এমএমআর) গুরুত্বপূর্ণ কল্যাণ ডোম্বিভলি পুরসভা থেকে। সেখানে মহায্যুতির ২১ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। যার মধ্যে বিজেপির ১৫ জন এবং শিবসেনার ছ’জন।

উত্তর মহারাষ্ট্রের জলগাঁও বিজেপি এবং শিবসেনার উর্বর রাজনৈতিক ক্ষেত্র। সেখানে উভয় দলই ছ’টি করে আসনে জয়ী হয়েছে। মুম্বই মেট্রোপলিটন অঞ্চলের পানভেলেও এই ধারা অব্যাহত ছিল। সেখানে বিজেপির সাতজন প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। দলটি ভিওয়ান্ডিতেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছ’টি আসনে জয়লাভ করেছে, যা বেশ কিছুদিন ধরে এনসিপি (শরদ পাওয়ার) গোষ্ঠীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। একনাথ শিন্ডের নিজের এলাকা থানেতে বিজেপির সঙ্গে প্রকাশ্য মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও, উপমুখ্যমন্ত্রীর শিবসেনা ছ’টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। রাজ ঠাকরের এমএনএস এই জেলায় ক্ষমতাসীন সরকারের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যান্য স্থানেও ছোট হলেও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ধুলেতে তিনজন বিজেপি প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, অহল্যা নগরে এনসিপি দু’টি এবং বিজেপি একটি আসনে জয়লাভ করেছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে প্রায় নিরঙ্কুশ জয়ের পর এই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়গুলি রাজ্যে ক্ষমতাসীন জোটের জন্য একটি নতুন উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করবে। এটি দলগুলিকে অন্যান্য এলাকায় প্রচারে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগও করে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *