দীপু দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশে। এবার খোকন দাস নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হল গণপিটুনি এবং নৃশংস হামলার জেরে। সম্প্রতি শরিয়তপুরে খোকনকে একাধিক কোপ মারা হয়েছিল। তারপর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁর গায়ে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেই খোকনের মৃত্যু হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ সকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন খোকন।
উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর খোকন দাসের ওপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। তাকে গণপ্রহার করা হয়। কোপ দেওয়া হয় মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায়। পরে তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে দেওয়া হয়। এর জেরে তিনি গুরুতর জখম হন। তাঁকে স্থানীয় হাসাপাতলে ভর্তি করা হয়। পরে ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল খোকনের। তবে জীবনযুদ্ধে হেরে আজ সকালে তিনি মারা যান। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে খোকন বসবাস করতেন। গ্রামে একটি মোডিসিন ও মোবাইলের ব্যবসা ছিল খোকনের। খোকনের তিন সন্তান ছিল।
এদিকে খোকন খুনের মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হল সোহাগ খান, রাব্বি মোল্লা। যদিও এখনও পুলিশ কাউকেই ধরতে পারেনি। পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে একাধিক দল গঠন করে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। অভিযুক্তদের দ্রুত ধরে বিচার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। খোকনের মৃত্যুর পরে মামলায় খুনের ধারা যোগ করা হয়েছে।

৩১ ডিসেম্বর রাতে অটো করে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় দুষ্কৃতীরা তাঁর অটো ঘিরে ফেলে এবং হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় তাঁকে। তাঁর মাথা ও মুখে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় রাস্তার পাশে থাকা এক পুকুরে লাফ দেন খোকন। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে খোকনকে উদ্ধার করে। এরপর শরিয়তপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে।