বৃহস্পতিবারই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতে আসছেন ২৩তম বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বার্ষিক সম্মলনে যোগ দিতে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এই প্রথমবার এ দেশের মাটিতে পুতিনের পা পড়তে চলেছে। ফলে নয়া দিল্লি-মস্কো সম্পর্কের নতুন রূপরেখা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পুতিনের মধ্যে বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, মার্কিন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ ছিল রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর ‘শাস্তি’ হিসেবে চাপানো অতিরিক্ত শুল্ক। পুতিনের সফরের আগে সেই নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছে মস্কো। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘ভারতের উপরে যে চাপ রয়েছে আমরা জানি।’ একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে বড় চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়ার নিম্নকক্ষ স্টেট দুমা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু ভারতের উপরে শুল্ক চাপিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতেই হবে। নয়া দিল্লি এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে মুখ খোলেনি। এই আবহে ভারত সফরে আসছেন পুতিন। তার আগে দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘আমরা জানি ভারতের উপরে চাপ রয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে আমাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।’
ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
১. ৪ এবং ৫ ডিসেম্বর ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলন। আর সেখানেই যোগ দিতে বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লিতে আসছেন পুতিন। পাশাপাশি শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর একটি বৈঠক করারও কথা রয়েছে তাঁর। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং চার বছর পর এটা পুতিনের প্রথম ভারত সফর।
২. প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ভারত-রাশিয়া মুক্ত বাণিজ্য,পারমাণবিক শক্তির জন্য ছোট চুল্লির প্রস্তাব, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও করতে আলোচনা করতে পারেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
৩. রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বিক্রি কমাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের প্রেক্ষাপটে, মস্কোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করে ভারতের কৌশলগত আত্মনির্ভরতার উপর জোর দেওয়ার জন্য এই বৈঠককে বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৪. গত সপ্তাহেই ভারত রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন ইউরেশিয়ান অর্থনৈতিক ইউনিয়ন-ইএইইউ-এর সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছেন যে রাশিয়া, আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান এবং কিরগিজস্তানের সমন্বয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের ইএইইউ-এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা এ বছরের ২০ আগস্ট নয়া দিল্লিতে স্বাক্ষরিত হয়।
৫. চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি মস্কোর সঙ্গে রিসিপ্রোক্যাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিক সাপোর্ট (আরইএলওএস) চুক্তিতে সই করে নয়া দিল্লি। তার অনুমোদনের জন্য নিম্নকক্ষ দুমায় পাঠিয়েছিলেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন। এ দিনই তার অনুমোদন মিলেছে। দুমার স্পিকার ভিয়াচেস্লাভ ভোলোদিন বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। আমরা এই সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই। আজকের অনুমোদন আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও দু’দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ, বিমান এবং সেনা ভারতের মাটিতে নামতে পারবে। একই ভাবে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীও যেতে পারবে রাশিয়ায়। উভয় দেশ একে অন্যকে লজিস্টিক সাপোর্টও দেবে। যৌথ সামরিক মহড়া, ট্রেনিং, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ-সহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থা চালু হবে।