মাস্কের Grok-এ বিকিনি ট্রেন্ডের ঝড়! কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের

Spread the love

সোশাল মিডিয়ায় এখন বিভিন্ন ধরণের ট্রেন্ড দেখা যায়। কোনওটা খুব ভালো। আবার কোনওটা খুব খারাপ। তবে ইলন মাস্কের এক্স-এর একটি ট্রেন্ড নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। তা হল, ‘গ্রক’-এর সাহায্যে যে কোনও কাউকে পড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বিকিনি। যা নিয়ে বিতর্ক চলছেই। এবার এক্স-এর বিরুদ্ধে এবার কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ‘গ্রক’-এর অপব্যবহার নিয়ে এক্সকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিসও পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক। তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং আইটি রুলস অনুযায়ী নির্ধারিত ‘ডিউ ডিলিজেন্স’ বা আইনগত দায়িত্ব পালনে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ তোলা হয়েছে সংস্থার বিরুদ্ধে।

কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের নোটিসে বলা হয়েছে, ‘গ্রক’ এআই ব্যবহার করে অশ্লীল, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ এবং অবমাননাকর কনটেন্ট তৈরি ও ছড়ানো হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য নারী ও শিশুরা। এই ধরনের কনটেন্টকে ব্যক্তিগত মর্যাদা, গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে কেন্দ্র। অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে এক্সকে, এমন সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। নোটিসে এক্সকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, গ্রক-এর প্রযুক্তিগত নকশা ও গভার্ন্যান্স কাঠামো দ্রুত পর্যালোচনা করতে হবে। পাশাপাশি সমস্ত বেআইনি কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে হবে, দোষী ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দিতে হবে।

মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য হলে আইটি আইনের অধীনে ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা হারাতে পারে এক্স। পাশাপাশি একাধিক সাইবার আইন, ফৌজদারি আইন ও শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনে পদক্ষেপ করা হতে পারে। এই নোটিসের পিছনে রয়েছে শিবসেনা দলের রাজ্যসভা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীর অভিযোগ। তিনি কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে চিঠি লিখে বিষয়টিতে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানান।

এআই ছবি ও অভিজ্ঞতা

রিও দ্য জেনেইরোর সংগীতশিল্পী জুলি ইউকারি নিউ ইয়ার’স ইভের ঠিক আগে এক্স-এ একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে তিনি লাল পোশাকে বিছানায় তার কালো বিড়াল নরির সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। পরের দিন তিনি লক্ষ্য করেন, অনেক ব্যবহারকারী গ্রক, এক্স-এর বিল্ট-ইন এআই চ্যাটবটকে তার ছবি ডিজিটালি বিকিনিতে দেখানোর জন্য অনুরোধ করছেন। ইউকারি প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি, ভেবেছিলেন চ্যাটবট এমন অনুরোধ পূরণ করবে না। তবে তিনি ভুল ভেবেছিলেন। কিছু সময়ের মধ্যে গ্রকের তৈরি প্রায় নগ্ন ছবি এক্স প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউকারির মতো পরিস্থিতি এক্স-এর আরও ব্যবহারকারীর সঙ্গেও ঘটেছে। গ্রকের মাধ্যমে কিছু কিশোরীরও অশ্নীল ছবি তৈরি হয়েছে। এক্স এবং গ্রকের মালিক এক্স এআই এই অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করেননি।

আন্তর্জাতিক সতর্কতা

এই ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে সতর্কতা সৃষ্টি হয়েছে। ফ্রান্সের মন্ত্রীরা এক্স-কে প্রসিকিউটর এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে রিপোর্ট করেছেন এবং জানিয়েছেন, ‘যৌন ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক’ কনটেন্ট স্পষ্টতই অবৈধ। গ্রক-এর মাধ্যমে ডিজিটাল পোশাক সরানোর অভিযান কয়েক দিনের মধ্যে বেড়ে গেছে। ইউজাররা সাধারণত নারীকে সর্বাধিক নগ্ন বা স্বচ্ছ পোশাকে দেখানোর অনুরোধ করেছেন। রয়টার্সের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কমপক্ষে ২১টি ক্ষেত্রে গ্রক সম্পূর্ণভাবে এই অনুরোধ পূরণ করেছে, যেখানে নারীদের ‘ডেন্টাল-ফ্লস’ বা স্বচ্ছ বিংকিনিতে দেখানো হয়েছে, এবং এক ক্ষেত্রে নারীর উপর তেল মেখে দেখানো হয়েছে। আরও সাতটি ক্ষেত্রে আংশিকভাবে অনুরোধ পূরণ হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *