হরিয়ানার ফরিদাবাদে চলন্ত গাড়ির ভিতরে ধর্ষণ ও পরে নির্যাতিতাকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলার ঘটনায় বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসছে। এইচটি-র রিপোর্ট অনুসারে, ঘটনার পর ফরিদাবাদের একটি বেসকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ২৫ বছরের তরুণীকে। তাঁর শরীরে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সেখানেই আইসিইউ-তে চিকিৎসা চলছে তাঁর।
পিটিআই-র প্রতিবেদন অনুসারে, গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ রোডে মঙ্গলবার ভোররাতে এই ঘটনা ঘটে। এখনও নির্যাতিতার অবস্থা আশঙ্কাজনক। পাশাপাশি নির্যাতিতা এতটাই আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে রয়েছেন যে, ঠিক করে কথাও বলতে পারছেন না। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতরা উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা হলেও, বর্তমানে ফরিদাবাদেই থাকতেন। বুধবার দু’জনকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ফরিদাবাদ-কাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে-
১. মায়ের সঙ্গে বচসা : পিটিআই-র প্রতিবেদন অনুসারে, নির্যাতিতা তিন সন্তানের মা। তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকেন না। সন্তানদের নিয়ে তিনি তাঁর বাপের বাড়িতে থাকেন। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, সোমবার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করার পর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান ওই তরুণীর। নিজের বোনকে বলে যান, সেক্টর ২৩-এ এক বন্ধুর বাড়িতে যাচ্ছেন তিনি।
২. লিফট ও ধর্ষণ : ফেরার সময়ে বেশি রাত হয়ে যাওয়ায় গাড়ি পাচ্ছিলেন না তরুণী। মধ্যরাতে বন্ধুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে মেট্রো চকের কাছে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। সেই সময় একটি ইকো ভ্যান এসে তাঁর সামনে দাঁড়ায়। রাত হয়ে যাওয়ায় বাড়ি ফেরার সময় গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তি তাঁকে লিফট দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। গাড়িতে তোলার পরই তরুণীর বলে দেওয়া গন্তব্যের দিকে না গিয়ে গাড়িটিকে গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ রোডের দিকে নিয়ে যান দু’জন। একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করে দুই অভিযুক্ত। নির্যাতিতার অভিযোগ, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ওই চলন্ত ভ্যানেই তাঁর ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায় দুই অভিযুক্ত। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়। রাত ৩টে তখন। এসজিএম নগরের রাজা চকের কাছে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলতে থাকা গাড়ি থেকে বাইরে ফেলে দেওয়া হয়।

৩. সাহায্যের জন্য আর্তনাদ : জানা গেছে, চিৎকার করলেও প্রচণ্ড ঠান্ডা এবং কুয়াশার মধ্যে রাস্তায় সেভাবে মানুষজন না থাকায় নির্যাতিতা কারও থেকে সাহায্যও চাইতে পারেননি। রাস্তার ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার কারণে নির্যাতিতার মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, রক্তাক্ত দেহে রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় কোনওভাবে ফোন করে বোনকে ঘটনার কথা জানান তরুণী। পরে তাঁর বোন ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে বাদশাহ খান সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা প্রথমে দিল্লিতে স্থানান্তরের পরামর্শ দিলেও পরিবার ফরিদাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।
৪. গুরুতর আঘাত : জানা গিয়েছে, বর্তমানে তরুণীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও, তিনি মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিধ্বস্ত। তরুণীকে গণধর্ষণের পর তাঁকে গাড়ি থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তাতে তাঁর মুখে কেটেছড়ে গিয়েছে। তার জন্য ১২টি সেলাইও পড়েছে। কাঁধেও ফ্র্যাকচার হয়েছে। কর্মকর্তারা এইচটি-কে বলেছেন, নির্যাতিতা অভিযুক্তদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছেন, যার ফলে তাঁর গুরুতর আঘাত লেগেছে। পাশাপাশি চলন্ত ভ্যান থেকে ফেলে দেওয়ার কারণে তাঁর গভীর ক্ষত হয়েছে। ফরিদাবাদ পুলিশের মুখপাত্র যশপাল যাদব জানান, নির্যাতিতার অবস্থা গুরুতর হলেও আপাতত তিনি বিপদমুক্ত।