ইসলামপন্থি গোষ্ঠী মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়াশোনা করতে আগ্রহী সে দেশের নাগরিকদের জন্য তহবিল সীমিত করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলিতে আগেই মুসলিম ব্রাদারহুড গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ব্রিটেন এই গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি। যা নিয়ে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, গত জুন মাসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শিক্ষা মন্ত্রক রাষ্ট্রীয় স্কলারশিপ এবং সরকারি স্বীকৃতির জন্য যোগ্য বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির একটি নতুন তালিকা প্রকাশের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স এবং ইজরায়েলের মতো দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কোনও নাম উল্লেখ ছিল না।সে দেশের সংশোধিত এই তালিকাটি বৃহত্তর সংস্কারের অংশ, যার লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সরকারি তহবিল সীমিত করা। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উদ্বেগের সঙ্গে সম্পর্কিত। তারা ব্রিটেনের ক্যাম্পাসগুলিতে উগ্র ইসলামপন্থী ঝুঁকি হিসেবে দেখে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে, ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ৭০ জন পড়ুয়ার ‘ইসলামী মৌলবাদের’ লক্ষণের জন্য প্রিভেন্ট ডির্যাডিক্যালাইজেশন প্রোগ্রামে সম্ভাব্য রেফারেলের জন্য রিপোর্ট করা হয়, যা এক বছর আগের রেকর্ড করা সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ।
২০১১ সালের ‘আরব বসন্ত’-এর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি দেশে এবং বিদেশে ইসলামপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এমনকী প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের নেতৃত্বে আবুধাবি বারবার মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ না করার ব্রিটেনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ব্রিটেনের সরকার গত বছর বলেছিল যে বিষয়টি নিয়ে গভীর পর্যালোচনা চলছে। যদিও ২০১৫ সালের এক পর্যালোচনায় ব্রিটেনে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে এই গোষ্ঠীর সংযোগের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও, বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ইতিমধ্যেই পাঠরত কিছু আমিরশাহির পড়ুয়ারা তহবিল পাচ্ছে এবং ধনী পরিবারগুলি এখনও ব্যক্তিগতভাবে ফি প্রদান করছে। তবে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি বলেছে যে তারা তাদের অনুমোদিত তালিকায় নেই এমন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া ডিগ্রি স্বীকৃতি দেবে না, যার ফলে সে দেশের স্নাতকদের জন্য ব্রিটেনের যোগ্যতার মূল্য হ্রাস পাবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রিটেনের স্টাডি ভিসা পাওয়া সংযুক্ত আরব আমিরশাহি পড়ুয়াদের সংখ্যা বিপুল পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র ২১৩টি ভিসা জারি করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ কম।
