আইপিএল থেকে বাদ পড়েছেন বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে বিসিসিআই এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছিল কেকেআরকে। আর তাতেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছে মহম্মদ ইউনুস সরকারের উপদেষ্টারা। এই পরিস্থিতিতে সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মুখ খুললেন। সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে তিনি বলেছেন, যাতে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারিত না হয়। বাংলাদেশের যে পরিস্থিতির জেরে মুস্তাফিজ আইপিএল থেকে বাদ পড়লেন, সেই সংখ্যালঘু অত্যাচারের ইস্যুতে অবশ্য ‘ঠুটো জগন্নাথ’ হয়েই বসে আছে ইউনুসের সরকার। বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দু নিধন চলছে। সংখ্যালঘুদের ওপর চলছে অত্যাচার।
উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর খোকন দাস নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে কোপ মেরে তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই ব্যবসায়ী ৩ জানুয়ারি মারা যান। কাকতালীয় ভাবে, এই খবর সামনে আসার কিছু পরই বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানান, কেকেআরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা মুস্তাফিজুরকে দল থেকে ছেড়ে দেয়।
নিলামে ৯ কোটি টাকারও বেশি দাম উঠেছিল মুস্তাফিজের। তাঁকে কিনেছিল কেকেআর। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে মুস্তাফিজকে দল থেকে ছেড়ে দিতে বলে বিসিসিআই। এর আগে সিএসকে, হায়দরাবাদের মতো দলের হয়ে আইপিএল খেলে গিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। এদিকে একদিকে ভারত বয়কটের ডাক দিচ্ছে বাংলাদেশ। অপরদিকে মুস্তাফিজ বাদ পড়ায় কার্যত রাতের ঘুম হাওয়া হয়েছে বাংলাদেশিদের।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমবর্ধমান অত্যাচারের আবহে কলকাতা নাইট রাইডার্সে মুস্তাফিজকে নেওয়ায় শাহরুখের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন ডানপন্থীরা। এমনকী শাহরুখকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম। শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, আধ্যাত্মিক গুরু দেবকীনন্দন ঠাকুরও মুস্তাফিজ ইস্যুতে শাহরুখকে তুলোধোনা করেছিলেন। এদিকে বিজেপির সাংসদ সঞ্জয় জয়সওয়াল বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে প্রসন্ন করতে নাকি মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স।