একটা সময় জমজমাট ছিল যিশু সেনগুপ্ত ও নীলাঞ্জনা শর্মার দাম্পত্য। দুই মেয়েকে নিয়ে চুটিয়ে সংসার করছিলেন তাঁরা। একসঙ্গে প্রযোজনা সংস্থাও শুরু করেছিলেন। সবই ঠিক চলছিল, কিন্তু তার মাঝেই হল ছন্দপতন। সম্পর্কে ধরে চিড়। কাগজে কলমে বিচ্ছেদ না হলেও, বহুদিন আগেই আলাদা হয়েছে তাঁদের ছাদ। এখন নীলাঞ্জনা সিঙ্গেল মাদার। তাঁর দেওয়া নানা ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সেই কথা বারবার উঠে আসে। আর এবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এক বছর আগেও পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না।’
সম্প্রতি আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নীলাঞ্জনা সিঙ্গেল মাদার প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার মনে হয় মাতৃত্ব বিষয়টাই কঠিন। মা বলতেন, ‘মা হলে বুঝবি’। সেটা আমি এখন বুঝতে পারছি। সব মাকেই কুর্নিশ। এই যাত্রাটা কঠিন ছিল। কোনও দিন হয়তো খুব ভালো যায়। আবার কোনও কোনও দিন সমস্যাও তৈরি হয়।’
তাঁর কথায়, ‘এখন অনেক ভালো পরিস্থিতিতে আছি আমি। এক বছর আগেও পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কিন্তু তার পরে ‘নিন্নি চিন্নিজ মাম্মা প্রোডাকশন’ তৈরি করার পরে দিশা পেয়েছি। তখন মুম্বইয়ে সারাকেও থিতু করার ব্যাপার ছিল। খুব ব্যস্ততা গিয়েছে। জারার ‘মিড্ল স্কুল’ শুরু হচ্ছিল। বাবা তখন অসুস্থ। সব মিলিয়ে সময়ই ছিল না। এত কাজ থাকলে, তখন বাড়িতে বসে কান্নাকাটি করার সময় থাকে না।’তিনি আরও বলেন, ‘আমি ক্ষমা করার কে? রাগ পুষে না রাখাই কাম্য। জীবন শেষ হয়ে যায়নি। প্রত্যেকের জীবনেই অনেক কিছু ঘটে। কিন্তু আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আমার জীবনে যা আছে, তাতেই খুব খুশি। আমার কারও প্রতি কোনও রাগ নেই, কোনও আফসোস নেই।’
প্রসঙ্গত, যীশু সেনগুপ্তের পদবী নীলাঞ্জনা নামের পাশ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি বাড়ির নেমপ্লেটেও নেই স্বামী যিশুর নাম। তবে কেবল নীলাঞ্জনাই নন। মেয়েদের সঙ্গেও যিশুর সেভাবে যোগাযোগ নেই। ইনস্টাগ্রামে যিশুকে বহুদিন আগেই আলফলো করেছেন সারা। মাকে গিয়েই এখন তার বড় হয়ে ওঠা। ‘হিপ হিপ হুররে’তে কাজের সূত্রেই যিশু-নীলাঞ্জনার পরিচয়, বন্ধুত্ব, প্রেম। তবে পরবর্তীতে যিশু-নীলাঞ্জনার সম্পর্কের মাঝে উঠে আসে তৃতীয় ব্যক্তির নাম।
