র‍্যাগিং, যৌন হেনস্থা! হিমাচলের কলেজ ছাত্রীর মৃত্যুতে কাঠগড়ায় অধ্যাপক

Spread the love

১৯ বছরের কলেজ ছাত্রীকে র‍্যাগিং, যৌন হেনস্থা, মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক প্রফেসর এবং আরও তিন ছাত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, মানসিক চাপ ও নির্যাতনের জেরে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মৃত্যু হয়েছে ওই ছাত্রীর। আর মৃত্যুর আগে মোবাইলে রেকর্ড করা একটি ভিডিও সামনে আসার পরই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায়।

এই ঘটনায় তিন ছাত্রী এবং কলেজ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৭৫, ১১৫(২) ও ৩(৫) ধারায় এবং হিমাচল প্রদেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (র‍্যাগিং নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০০৯-এর ৩ ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সুপার অশোক রতন জানান, ‘আগে শুধু র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ এসেছিল, কিন্তু ভিডিওটি সামনে আসার পর অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানির বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ ছাত্রীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত হাসপাতালেও তদন্ত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ছাত্রীটি ধর্মশালার সরকারি ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন। অভিযোগ, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কলেজে নির্মম র‍্যাগিংয়ের শিকার হন তিনি। মৃত ছাত্রীর বাবা পুলিশে দায়ের করা অভিযোগে জানান, হর্ষিতা, আকৃতি এবং কমলিকা নামে তিন ছাত্রী তাঁর মেয়েকে প্রচণ্ড মারধর ও মানসিক হেনস্থা করে। মুখ খুললে তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। পাশাপাশি, কলেজের অধ্যাপক অশোক কুমারের বিরুদ্ধেও যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, এই দুদিকের অত্যাচারে ওই ছাত্রী ভেঙে পড়েছিলেন। অধ্যাপকের এই আচরণে তিনি তীব্র মানসিক চাপে ভুগছিলেন। ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থারও অবনতি হতে থাকে। পরিবারের দাবি, এই মানসিক ট্রমার কারণেই তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত মারা যান। চিকিৎসার জন্য তাঁকে একাধিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গত ২৬ ডিসেম্বর লুধিয়ানার ডিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ছাত্রীটির।

ভিডিওতে ছাত্রী কী বলেছেন?

জানা গিয়েছে, মৃত্যুর আগে ওই ছাত্রী মোবাইলে ভিডিও রেকর্ড করে সমস্ত অভিযোগ জানান। তখনই তাঁকে বলতে শোনা যায়, অধ্যাপক কীভাবে তাঁকে অশালীন স্পর্শ করেছেন। সেই সঙ্গেই অন্যভাবে মানসিক ও যৌন নিপীড়নেরও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি ওই তিন ছাত্রীর বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগও তুলতে দেখা যায় তাঁকে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। ভিডিওটিতে একজন মহিলা অধ্যাপকের নাম জিজ্ঞাসা করেন। যার উত্তরে ওই ছাত্রী বলেন, ‘অশোক স্যার।’ এরপর তাঁর সঙ্গে অধ্যাপক কী করবেন জানতে চাইলে ওই ছাত্রী বলেন, পিছনেই পড়ে থাকবেন, অর্থাৎ তাঁকে বিরক্ত করবে। তিনি আরও জানান, তাঁকে স্পর্শ করে ওই অধ্যাপক অনেক কথা বলতেন। যদিও ওই অধ্যাপক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযুক্ত অধ্যাপকেরও পাশে দাঁড়িয়ে কলেজের অধ্যক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তি বহুদিন ধরে নির্বিঘ্নে পড়াচ্ছেন। তবে বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে, তাই এর বেশি তিনি বলবেন না বলেই জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *