শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালেন দুই প্রার্থী

Spread the love

একেবারেই শেষ মুহূর্তে এসে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দুইজন প্রার্থী। তারা হলেন রাজধানী তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি ও অপরজন ভাইস প্রেসিডেন্ট আমির হোসেন গাজিজাদেহ হাসেমি।

হাসেমির পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরে দাঁড়ানোর ঘোষনা দেন তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি। বৃহস্পতিবার এক এক্স বার্তায় তিনি বলেন, তিনি সরে যাচ্ছেন। হাশেমি রাইসির অন্যতম ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০২১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং ১০ লাখেরও কম ভোট পেয়ে সবার পেছনে ছিলেন।

দুই জন সরে দাঁড়ানোয় প্রার্থী থাকলো আর মাত্র চারজন। তারা হলেন মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, সাঈদ জালালি, মাসুদ পেজেশকিয়ান ও মোস্তফা পুরমোহাম্মদি। ৬২ বছর বয়সী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইরানের একজন পরিচিত রক্ষণশীল নেতা। ২০২০ সাল থেকে দেশটির পার্লামেন্টে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

ইরানে গত মাসে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। তার উত্তরসূরি বাছাইয়ে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই (২৮ জুন) শুরু হবে ভোট গ্রহণ। একদিন আগেই তথা বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে।

ছয়জন প্রার্থীকে নির্বাচনে লড়াইয়ের অনুমোদন দেয় গার্ডিয়ান কাউন্সিল। তবে শেষ মুহূর্তে এসে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নির্বাচনের মাত্র দুদিন আগে গত বুধবার রাতে ভাইস প্রেসিডেন্ট গাজিজাদেহ হাশেমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন এবং অন্য প্রার্থীদেরও সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

ইরানের উত্তর–পূর্বের নগরী মাশহাদের কাছে ১৯৬১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন গালিবাফ। রাজধানী তেহরানের মেয়রের দায়িত্ব পালনসহ তিনি সরকারি নানা পদে ছিলেন। এর আগে ২০০৫, ২০১৩ ও ২০১৭ সালেও গালিবাফ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন। তবে শেষবার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে তিনি রাইসিকে সমর্থন দেন।

এবারের প্রার্থীদের মধ্যে পেজেশকিয়ানই সবচেয়ে বয়স্ক এবং একমাত্র সংস্কারপন্থী প্রার্থী। ১৯৫৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া পেজেশকিয়ান একজন হার্ট সার্জন। ২০০৮ সাল থেকে টানা উত্তর–পশ্চিমের নগরী তাবরিজ থেকে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন তিনি।

পেজেশকিয়ান বরাবর ইরানের বর্তমান শাসকদের সমালোচনা করে এসেছেন। ইরানের সাবেক সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি। যে বছর (২০২১ সাল) রাইসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন, সে বছর পেজেশকিয়ান অন্য সংস্কারপন্থী ও মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছিলেন।

২০২২ সালে তেহরানের নীতি পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনার পর ইরানজুড়ে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল সে সময় রাইসি সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন পেজেশকিয়ান।

রাজনীতিতে আসার আগে গালিবাফ ইরানের অভিজাত বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৭ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তাকে রেভল্যুশনারি গার্ডের বিমানবাহিনীর প্রধান করেছিলেন। 

আর ২০০০ সালে পুলিশপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বাঘের গালিবাফের নাম ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১৯৯৯ সালের ছাত্র আন্দোলন কঠোর হাতে দমনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

আরও একজন কট্টর রক্ষণশীল প্রার্থী ৫৮ বছরের সাঈদ জালিলি। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন তিনি। জালিলি ঘোর পশ্চিমাবিরোধী। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তিরও তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।

১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাশহাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেন জালিলি। খামেনি তাঁকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিলেন। জালিলি ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। 

সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি একটি পা হারান। ২০১৩ সালে জালিলি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেন। ২০১৭ সালে রাইসিকে সমর্থন দিয়ে প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *