বিগত বেশ কিছুটা সময় জুড়ে বাংলাদেশে ক্রমাগত সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের একাধিক ঘটনা উঠে আসলছে। বাংলাদেশের রাজনীতিক হাদির মৃত্যুর খবরের রাতে, দীপু দাসের নির্মম হত্যার পর থেকে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা উঠে আসছে বাংলাদেশে। কখনও খোকন দাসের গায়ে আগুন ধরানোর ঘটনা, তো কখনও অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা, রাণাপ্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে খুন করার ঘটনা বাংলাদেশ থেকে উঠে আসছে। এছাড়াও সেদেশে বহু জায়গায় সংখ্যালঘুদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুলল দিল্লি। শুধু তাই নয়, ইউনুসের বাংলাদেশের পরিস্থিতি দেখে ইউকের সাংসদ প্রীতি প্যাটেলও সরব হয়েছেন। তিনি চিঠি লেখেন ইউকের বিদেশ সচিবকে।
ইউনুস সরকারের ভোটমুখী বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় একবার ফের সরব হল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। এদিন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন,’ আমরা ক্রমাগত সংখ্যালঘুদের উপর, তাদের বাড়িঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপর চরমপন্থীদের দ্বারা বারবার আক্রমণের এক অস্বস্তিকর প্রবণতা প্রত্যক্ষ করছি। এই ধরনের সাম্প্রদায়িক ঘটনা দ্রুত এবং দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করা প্রয়োজন।’ বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর পরপর অত্যাচারের ঘটনায় ইউনুস প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়েও দিল্লির কড়া বার্তা আসে। সাফ ভাষায় দিল্লি বলে,’আমরা ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য, অথবা বহিরাগত কারণে এই ধরনের ঘটনাগুলিকে দায়ী করার উদ্বেগজনক একটি প্রবণতা লক্ষ্য করছি। এই ধরনের অবহেলা কেবল অপরাধীদের সাহস জোগায় এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতিকে আরও গভীর করে তোলে।’ দিল্লি এই ইস্যুতে ইউনুস সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে দিল্লি নিজের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ ইস্যু যে শুধুমাত্র এশিয়ার কূটনৈতিক গণ্ডিতেই আলেচিত তা নয়। ইউকের সাংসদ প্রীতি প্যাটেলও বাংলাদেশর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেদেশের বিদেশ সচিবকে একটি চিঠি দিয়েছেন। প্রীতি লেখেন,’ বাংলাদেশের পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা উচিত এবং হিন্দুদের হত্যা এবং নির্যাতনের ঘটনা অন্যায় এবং তা বন্ধ করা উচিত।’ মাস ঘুরলেই বাংলাদেশে ভোট। তার আগে, একের পর এক হিংসা সেদেশকে নতুন করে খবরে তুলে ধরছে। প্রীতি তাঁর চিঠিতে লেখেন,’ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে, ১৮ দিনের মধ্যে কমপক্ষে ছয়জন হিন্দুকে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। এই স্তরের নিপীড়ন এবং সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য।’ তিনি তাঁর পোস্টে বলছেন,’যুক্তরাজ্য সরকারকে অবশ্যই তার প্রভাব এবং আহ্বানকারী ক্ষমতা ব্যবহার করে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা আনার জন্য কাজ করতে হবে এবং এমন একটি ভবিষ্যৎ প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকবে এবং হিন্দুরা নিরাপদ থাকবে।’ চিঠিটি তুলে ধরে তিনি একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টও করেন। সেখানেও বাংলাদেশ নিয়ে তিনি তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।