৩ কোটি হিন্দু দেবতা নিয়ে হালকা চালের মন্তব্য করেছিলেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি। আর সেই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রেবন্ত বলেন, ‘হিন্দু ধর্মে কত দেবতা আছে? কত দেবতা? তিন কোটি? কেন? যারা অবিবাহিত, তাদের জন্য হনুমান দেবতা আছে। যারা দুবার বিবাহিত, তাদের জন্য অন্য দেবতা আছে। যারা পান করে, তাদের জন্য অন্য দেবতা আছে। ইয়েল্লাম্মা, পোচাম্মা, মাইসাম্মা। যারা মুরগির মাংস খায়, তাদের জন্যও এক দেবতা আছে। আর যারা ডাল-ভাত খায়, তাদের জন্যও এক দেবতা আছে, তাই না? সব ধরণের দেবতা আছে।’
দলীয় কার্যনির্বাহী বৈঠকে এই বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন রেবন্ত। তাঁর সেই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী দল বিজেপি এবং বিআরএস। তাদের অভিযোগ, হিন্দুদের ভাবাবেগে আঘাত হেনেছেন রেবন্ত রেড্ডি। মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা তেলঙ্গানার প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি বান্দি সঞ্জয় কুমার অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস দল হিন্দুদের প্রতি গভীর ঘৃণা পোষণ করে। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি হিন্দু দেবদেবীদের অবমাননা করে যে মন্তব্য করেছেন, তার তীব্র নিন্দা জানাই। কংগ্রেস সবসময়ই AIMIM-এর সামনে মাথা নত করে। রেবন্ত রেড্ডি নিজেই বলেছেন যে কংগ্রেস একটি মুসলিম দল। এই বক্তব্যই তাদের মানসিকতা প্রকাশ করে। কংগ্রেস হিন্দুদের প্রতি গভীর ঘৃণা পোষণ করে। ঠিক এই কারণেই আমরা জুবিলি হিলস উপনির্বাচনের সময় সতর্ক করে দিয়েছিলাম যে যদি কংগ্রেস বা বিআরএস দুর্ঘটনাক্রমে জিতলে হিন্দুরা মর্যাদার সাথে বাইরে বের হতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য প্রমাণ করে যে বিজেপি ঠিকই বলেছিল।’
এদিকে বিআরএস-ও রেবন্তের নিন্দায় সরব হয়েছে। বেশ কয়েকজন নেতা দাবি করেন যে মুখ্যমন্ত্রী অবিলম্বে যাতে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করেন এবং রাজ্যজুড়ে কোটি কোটি হিন্দুর অনুভূতিতে আঘাত করার জন্য ক্ষমা চান। বিজেপির রাজ্য সভাপতি জি রামচন্দ্র রাও মুখ্যমন্ত্রী এবং কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যব্যাপী বিক্ষোভ ও আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। রেবন্তকে নিঃশর্তে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি করেছেন রামচন্দ্র। আগামী দিনে তেলঙ্গানা জুড়ে বিক্ষোভ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
