বাংলাদেশে হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমবর্ধমান অত্যাচারের আবহে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) দলে জায়গা করে নিয়েছে ওপার বাংলার তারকা ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমান। সেই নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে শাহরুখ খান ও কেকেআর কর্তৃপক্ষ। মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি টাকা দিয়ে কেনায় দলের মালিক তথা অভিনেতা শাহরুখ খানকে তীব্র আক্রমণ করেছেন উত্তরপ্রদেশের এক বিজেপি নেতা।
উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার প্রাক্তন সদস্য সঙ্গীত সোম, শাহরুখ খানকে সরাসরি ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। মীরাটে একটি জনসভায় সোম বলেন, ‘একদিকে বাংলাদেশে হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে, অন্যদিকে আইপিএলে ক্রিকেটার কেনা হচ্ছে। দেশদ্রোহী চলচ্চিত্র অভিনেতা শাহরুখ খান ৯ কোটি টাকায় বাংলাদেশি ক্রিকেটার (মুস্তাফিজুর) রহমানকে কিনেছেন। এই ধরনের দেশদ্রোহীদের এই দেশে থাকার কোনো অধিকার নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশের মানুষই আপনাকে এই অবস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। আপনি যদি টাকা পান, তবে তা এই দেশ থেকেই পান। কিন্তু আপনি দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।’
গত ১৬ ডিসেম্বর আইপিএল খেলোয়াড় নিলামে মুস্তাফিজুর রহমানকে ৯.২ কোটি টাকায় কেনা হয়েছে। বিজেপি নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, রহমান যদি ভারতে আসেন তবে তিনি ‘বিমানবন্দর থেকে বের হতে পারবেন না।’ ২০২৬ সালের মার্চ মাসে আইপিএল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, আধ্যাত্মিক গুরু দেবকীনন্দন ঠাকুরও রহমানকে কেনার জন্য শাহরুখ খানের সমালোচনা করেছেন এবং কেকেআর (KKR) ম্যানেজমেন্টকে অনুরোধ করেছেন যেন তাকে দলে খেলানো না হয়।

আধ্যাত্মিক গুরু দেবকীনন্দন ঠাকুর শাহরুখ খানের সমালোচনা করে বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং হিন্দুরা, যারা কেকেআর মালিককে তারকা বানিয়েছেন, তারা দেখছেন যে বাংলাদেশে হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে, জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং মেয়েদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে—তা সত্ত্বেও ওই মালিক কোনো কিছু বিবেচনা না করেই ভারতীয় দলে বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্ত করছেন।’
এই বাগযুদ্ধ এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। গত মাসে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা এবং তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হয়েছে। যদিও বিসিসিআইয়ের এক সিনিয়র আধিকারিক জানিয়েছেন, বাংলাদেশ শক্রু দেশ নয়। বাংলাদেশি প্লেয়ারদের আইপিএল থেকে ব্যান করার জন্য ভারত সরকার কিছু নির্দেশ দেয়নি। তাই নিশ্চিতভাবে মুস্তাফিজুর আইপিএলে খেলবেন।