৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে রাজঘাটে গান্ধী-স্মরণে প্রধানমন্ত্রী মোদী

Spread the love

মহাত্মা গান্ধীর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে দিল্লির রাজঘাটে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার এই উপলক্ষে রাজঘাটে প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে গান্ধীজির প্রিয় ভজন ‘রঘুপতি রাঘব রাজা রাম’-সহ একাধিক ভক্তিগীতি পরিবেশিত হয়।

এক্স বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

শুক্রবার সকালেই এক্স পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকীতে জাতির জনকের প্রতি আমার শত শত প্রণাম। শ্রদ্ধেয় বাপু স্বদেশির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যা আজও একটি উন্নত ও আত্মনির্ভর ভারতের সংকল্পের অন্যতম স্তম্ভ। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও কর্ম চিরকাল দেশবাসীকে চিরকাল কর্তব্যের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করবে। আর এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদী, গান্ধীজির অহিংসা নীতির কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ‘মানবতার সুরক্ষার জন্য অহিংসার উপরই জোর দিয়েছিলেন বাপু। এই শক্তির এমন ক্ষমতা রয়েছে, যা অস্ত্র ছাড়াই বিশ্বকে বদলে দিতে পারে।’ সেই সঙ্গে তিনি অহিংসার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে সংস্কৃত শ্লোকও উদ্ধৃত করেন।

রাজঘাটে প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লির রাজঘাটে গিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানান। প্রার্থনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মূর্মূ ও উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাজঘাটে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় শেঠ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এদিন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তও রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানান। উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি দিল্লিতে নাথুরাম গডসের গুলিতে নিহত হন মহাত্মা গান্ধী। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরই রাজঘাটে রাষ্ট্রীয় স্তরে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও গান্ধীজিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁর চিন্তাধারা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে। তিনি লেখেন, ‘মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে অগণিত প্রণাম। ভাষা, অঞ্চল ও জাতিভেদে বিভক্ত দেশকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন গান্ধীজি। স্বদেশি, স্বাধীনতা ও পরিচ্ছন্নতার ভাবনাকে একসূত্রে গেঁথে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক গৌরবময় ভারতের স্বপ্ন, যা আজও আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।’ কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকড়িও গান্ধীজির মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্ট করেন, ‘জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে সশ্রদ্ধ প্রণাম।’ কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও বিস্তারিত বার্তায় গান্ধীজির বিশ্বব্যাপী প্রভাব ও নৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ‘জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে বিনম্র শ্রদ্ধা। সত্য, অহিংসা ও সম্প্রীতির উপর প্রতিষ্ঠিত তাঁর জীবনদর্শন কেবল ভারত নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য শান্তি, নীতি ও মানবিক মর্যাদার দিশারি। সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে তাঁর ভাবনা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *