বিমান বসুর প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান! প্রতীকের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

Spread the love

বিধানসভা নির্বাচনের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে একটি নাম- ‘তরুণ তুর্কী’ প্রতীক উর রহমান। সোমবার সিপিএমের এই তরুণ নেতার আচমকা ইস্তফার ঘোষণায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তারপর থেকে তোলপাড় বাম রাজনীতি। এই আবহে দলের ‘তরুণ তুর্কী’কে ফিরিয়ে আনতে তৎপর হন বর্ষীয়ান নেতা বিমান বসু। কিন্তু বর্ষীয়ান নেতার প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও সিপিএমের প্রতি যে বীতশ্রদ্ধ, তা নাকি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রতীক উর। এই যুক্তিতেই বিমান বসুর বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। এতেই কার্যত স্পষ্ট যে, আর কোনও দোলাচলে নেই প্রতীক উর। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নিশ্চিত তিনি।

ভোটের মুখে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হয় অতি সাবধানে। আর সেই কাজটাই এই মুহূর্তে করে চলেছে রাজ্য বামফ্রন্ট। আর সেই লক্ষ্যে দলের ‘তরুণ তুর্কি’ প্রতীক উর রহমানকে ধরে রাখতে আসরে নেমেছেন খোদ প্রবীণ বিমান বসু। কারণ, সিপিএমের একাংশ চাইছে প্রতীক উরের মতো তরতাজা, সংখ্যালঘু, সক্রিয় নেতাকে সামনে রেখে ছাব্বিশের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে। তাই মানভঞ্জনে প্রতীক উরকে ফোন করেছিলেন বিমান বসু। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি বলেই খবর। এই প্রসঙ্গে প্রতীক উর জানান, একটি অচেনা নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন এসেছিল। তাঁকে জানানো হয়েছিল যে বিমান বসু বলছেন। সেই ফোনেই তাঁকে আলিমুদ্দিনে বৈঠকে বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতীক উর নাকি সেই প্রস্তাব পত্রপাঠ নাকচ করে দিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, প্রতীক উর নাকি বিমান বসুকে জানিয়েছেন, ‘আপনার আদেশ আমি অমান্য করতে পারি না। কিন্তু বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে আমি আপনার মুখোমুখি হতে পারব না।’ তাঁর সাফ কথা বিমান বসুকে শ্রদ্ধা করলেও দলের প্রতি বীতশ্রদ্ধ তিনি। একাধিক ইস্যু নিয়ে দলকে জানানো হলেও তাতে কর্ণপাত করা হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁর। দীর্ঘদিন ধরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির কারণেই কড়া পদক্ষেপের পথে হেঁটেছেন প্রতীক উর। এই মুহূর্তে সিদ্ধান্তে অনড় তিনি। সে কারণেই খোদ বিমান বসু মাঠে নামার পরও গলল না বরফ। এতেই আরও জোরদার হয়েছে বামনেতার তৃণমূল যোগের জল্পনা। তবে প্রাক্তন এসএফআই রাজ্য সভাপতি এবং ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে লড়ে উঠে আসা এই তরুণ মুখের ইস্তফা সিপিএমের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিকে প্রতীক উরের পাঠানো পদত্যাগপত্র ফাঁস হওয়া নিয়েও দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে। কে বা কারা এই চিঠি প্রকাশ্যে আনল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, তিনি এখনও সিপিএমের আদর্শেই বিশ্বাসী, তবে সংগঠনের ভিতরের সমস্যার সমাধান না হলে তাঁর পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়া কঠিন। ভোটের আগে এই ঘটনায় বাম রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে এসেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *