বাঙালির বসন্তোৎসব পর্যটন মানচিত্রের একমাত্র গন্তব্য শান্তিনিকেতন। বসন্তোৎসব বা দোল এবং পৌষ মেলার গন্ধ বাতাসে ভাসলেই বাঙালি ছোটে শান্তিনিকেতনে। আর শহুরে আধুনিকাদের কাছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে আরও একটি বড় আকর্ষণ হল খোয়াইয়ের সোনাঝুরি হাট। কিন্তু, এবার এখানেই কী পড়তে চলেছে নিষেধাজ্ঞার কাঁটাতারের বেড়া? সম্প্রতি উঠতে শুরু করেছে, যার নেপথ্যে রয়েছে একটি চিঠি।
জঙ্গলের পরিবেশ ধ্বংস করে যাতে কোনওভাবেই শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গলে দোলের দিন আবির বা রঙ খেলা না-হয়, সেই দাবিতে বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈনকে চিঠি দিয়েছেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত ৷ এরপরেও যদি দোলের দিন সোনাঝুরি জঙ্গলে মানুষের ভিড় ও রং খেলা হয়, তাহলে সেই ছবি তিনি জাতীয় পরিবেশ আদালতে পাঠাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ৷ বলে রাখা ভালো, সোনাঝুরি জঙ্গলের খোয়াইহাট বেআইনি, এই অভিযোগে আগে থেকেই জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা চলছে ৷ সেই আবহে আগামী ৩ মার্চ অর্থাৎ দোলের দিন প্রতিবারের মতো জঙ্গল ধ্বংস করে বিশাল জমায়েত করে যাতে আবির-রঙ খেলা না-হয়, সেই দাবিতে প্রশাসনকে সজাগ থাকার আবেদন করলেন পরিবেশকর্মী ৷
একই সঙ্গে সুভাষ দত্ত জানিয়েছেন, যদি এবারও সোনাঝুরি জঙ্গল ধ্বংস করে মানুষজন আবির ও রঙ খেলায় মাতেন, তাহলে সেই ছবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবেন তিনি ৷ তাঁর কথায়, ‘আমি বীরভূম জেলাশাসককে চিঠি দিয়েছি ইমেল মারফত ৷ তিনি জেলার প্রশাসনিক প্রধান, তাই তাঁকে বিষয়টা জানিয়েছি ৷ দোলের দিন যাতে সোনাঝুরি জঙ্গলে নন ফরেস্ট অ্যাক্টিভিটি না-হয়, তার আবেদন করেছি ৷ একে তো সোনাঝুরির হাট নিয়ে মামলা চলছে ৷ সবাই এই মামলার পার্ট ৷ তাই যেন দোলের দিন জঙ্গল ধ্বংস করে রঙ-আবিরে মাততে না-দেওয়া হয় ৷ যদি, হয় আমি সেই ছবি আদালতে তুলে ধরব ৷’ ২০২০ সাল থেকে দেখা যাচ্ছে দোলের দিন শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গলে মানুষের ঢল নামছে ৷ অভিযোগ, উন্মত্ত জনতা জঙ্গলের পরিবেশ ধ্বংস করে, বন আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আবির ও রঙের খেলায় মাতেন ৷ চার চাকা গাড়ি থেকে বাইক, জঙ্গলের গাছ মারিয়ে ঢুকে পরে ৷ অভিযোগ, সব দেখেও এ নিয়ে চুপ থাকে বন দফতর, বোলপুর পুরসভা ও শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ ৷

এবারেও বন আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পরিবেশ ধ্বংসের সম্ভাবনা প্রবল বলে অভিযোগ করেছেন সুভাষ দত্ত ৷ তাই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈনকে চিঠি দিয়েছেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত ৷ চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘সোনাঝুরির হাট নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা চলছে ৷ এই আবহে আগের মতো যাতে অরণ্য বহির্ভূত কার্যকলাপ দোলের দিন না-হয়, তা দেখার আবেদন জানাই ৷ তার জন্য আশাকরি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন ৷’ যদিও, সোনাঝুরির খোয়াই হাটে গেলে দেখা যাবে সেখানে বন দফতরের তরফে বোর্ড লাগানো আছে ৷ তাতে লেখা রয়েছে, ‘বনভূমিতে অনধিকার প্রবেশ নিষেধ ৷ যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ ৷ বন দফতরের জায়গায় বনভোজন, মাইক বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ৷ নীরবতা পালন করুন ৷’ এই প্রসঙ্গে সোনাঝুরির খোয়াই হাট কমিটির সম্পাদক তন্ময় মিত্র বলেন, ‘আমরা দোলের দিন সোনাঝুরি জঙ্গলে কোনও উৎসব করছি না ৷ আগেরবারেও কোনওরকম দোল খেলার আয়োজন করা হয়নি ৷ মানুষজন যাতে প্রবেশ না-করে, বন দফতর ও পুলিশ দেখুক ৷ আমরা নিজেদের পেটের দায়ে চাই পরিবেশ বেঁচে থাকুক ৷’ এদিকে বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, ‘সোনাঝুরি জঙ্গল ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের ৷ ওনারাই ভালো বলতে পারবেন ৷’