এয়ারবাস এ৩২০ পরিবারের বিমানের সফটওয়্যার সংক্রান্ত গোলযোগের ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে ভারতেও। এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। লেট হতে পারে বিমান। একগুচ্ছ বিমান বাতিলও হতে পারে। সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সবমিলিয়ে ভারতে ২০০-২৫০টি বিমানের পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগোর তরফেও জানানো হয়েছে যে এই পরিস্থিতির জেরে একাধিক বিমান লেট হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে তাদের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে বিমানের স্ট্যাটাস জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস কর্তৃপক্ষ। তবে কোন কোন বিমানের পরিষেবা ব্যাহত হবে, সেই বিষয়ে ওই তিনটি উড়ান সংস্থার তরফে কিছু জানানো হয়নি।
কিন্তু এয়ারবাস এ৩২০ বিমানের সমস্যাটা ঠিক কী হয়েছে?
মাসখানেক আগে আচমকা মার্কিন উড়ান সংস্থা জেট ব্লু’র একটি বিমানের উচ্চতা আচমকা কমে গিয়েছিল। জরুরি অবতরণ করতে হয়েছিল সেই বিমানকে। তার জেরে আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ১৫ জন যাত্রী। সেই ঘটনার পরে এয়ারবাসের তরফে জানানো হয়েছে, তীব্র সৌর বিকিরণের কারণে অনেক এ৩২০ পরিবারের বিমানের (এ৩১৯এস, এ৩২০ সিইওস, এ৩২০ নিওস, এ৩২১ সিইওস এবং এ৩২১ নিওস) কন্ট্রোলের গুরুত্বপূর্ণ ডেটার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই সমস্যা মোকাবিলার জন্য সফটওয়্যার সংক্রান্ত পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে।
ইএলএসি যুক্ত করতে বলল এয়ারবাস
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অ্যাভিয়েশন সেফটি এজেন্সির তরফে জানানো হয়েছে, যে বিমানগুলির ক্ষেত্রে গোলযোগ ধরা পড়েছে, সেগুলিতে ‘এলিভেটেড এলিরন কম্পিউটার’ (ইএলএসি) যুক্ত করতে বলেছে এয়ারবাস। যা সাধারণত ফ্লাইট কন্ট্রোলের জন্য ব্যবহার করা হয়। যে বিমানগুলির ক্ষেত্রে গোলযোগ ধরা পড়েছে, সেগুলির পরেরবার যখন উড়বে, তার আগে সেই পরিবর্তন সেরে ফেলতে হবে।আর সেটার কারণে উড়ান পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

ভারতে কতটা প্রভাব পড়তে পারে?
আর সেটার প্রভাব পড়তে পারে ভারতেও। ভারতের একাধিক উড়ান সংস্থা এয়ারবাস এ৩২০ বিমান ব্যবহার করে থাকে। সূত্র উদ্ধৃত করে পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতীয় উড়ান সংস্থাগুলি ৫৬০টির মতো এ৩২০ বিমান ব্যবহার করে। ২০০-২৫০টি বিমানের সফটওয়্যার সংক্রান্ত পরিবর্তন বা হার্ডওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে। আর তার জেরে ওই বিমানগুলির পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে বলে সূত্র উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।