গত ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দেরাদুনের সেলাকুই এলাকায় ত্রিপুরার পড়ুয়াকে খুনের ঘটনাটি বর্ণবিদ্বেষী নয় বলে দাবি করল পুলিশ। ৯ ডিসেম্বর রাতে অভিযুক্তরা প্রথমে ত্রিপুরার বাসিন্দা অ্যাঞ্জেল চাকমাকে চিনা-মোমো বলে উত্যক্ত করে এবং তারপরে ছুরি দিয়ে তাঁকে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার ১৫ দিন পরে হাসপাতালে চিকিৎাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় অ্যাঞ্জেলের। অ্যাঞ্জেলের ভাই মাইকেল ২৭ ডিসেম্বর মুখ খোলেন এই ঘটনায়। তিনি তখন দাবি করেছিলেন, তাঁদের দিকে বর্ণবিদ্বেষী টিপ্পনি কাটা হয়েছিল। পরে তা বচসা এবং মারামারিতে পরিণত হয়েছিল। সেই সময়ই অ্যাঞ্জেলকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল।
এদিকে অ্যাঞ্জেলের হত্যার ঘটনায় এসএসপি অজয় সিং জানিয়েছেন, এসপি দেহাত পঙ্কজ গাইরোলার নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। সেই দলটি এই ঘটনার তদন্ত করছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে অজয় সিং দাবি করেছেন, এই ঘটনায় বর্ণবিদ্বেষের যোগ ছিল না। তাঁর কথায় , হামলাকারীদের একজন ছিল মণিপুরি, একজন আদিবাসী, একজন নেপালি।
উল্লেখ্য, ঘটনায় মূল অভিযুক্ত যজ্ঞরাজ অবস্তি আদতে নেপালের বাসিন্দা এবং পুলিশের সন্দেহ যে সে নেপালে পালিয়ে গেছে। নেপালকে এ ব্যাপারে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। অ্যাঞ্জেল খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন নাবালক। এদিকে অভিযুক্ত সেই নেপালিকে ধরতে পুলিশের একটি দলকে নেপালে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য দলকে হরিদ্বারে তদন্ত চালাচ্ছে। অভিযুক্ত যজ্ঞরাজ অবস্তি হরিদ্বারে পড়াশোনা করত। এই নেপালির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে। অভিযোগ এই যজ্ঞ অবস্তিই ছুরিকাঘাত করেছিল অ্যাঞ্জেলকে। এদিকে এই ঘটনায় ধৃত প্রাপ্তবয়স্কদের নাম হল – অবিনাশ নেগি, সুরজ খাওয়াস এবং সুমিত। যজ্ঞ অবস্তিকে গ্রেফতারের জন্য ২৫ হাজার টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিএনএসের ধারা ১০৩(১) (হত্যা) এবং ৩(৫) (সম্মিলিত অপরাধমূলক অভিপ্রায়)-এর অধীনে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
