Army Chief on Pakistan। ‘পরের বার আর সংযম নয়.. বিশ্বমানচিত্রে পাক থাকতে চায় কিনা…’

Spread the love

জয়পুর, শুক্রবার পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন যে, বিশ্ব মানচিত্রে তার স্থান ধরে রাখতে হলে প্রতিবেশী দেশটিকে তার মাটিতে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। সেনাপ্রধান আরও বলেন যে, অপারেশন সিঁদুরের সময় নয়াদিল্লি যে সংযম দেখিয়েছিল, ভবিষ্যতে সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে তা পুনরাবৃত্তি হবে না এবং ভারতীয় সৈন্যদের যেকোনও পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

ভারতের সেনা প্রধান দ্বিবেদী সাফ ভাষায় জানান, ‘একটি দেশ হিসেবে ভারত এবার সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। এবং এবার, অপারেশন সিঁদুর ১.০-এর সময় যে সংযম দেখিয়েছিল তা দেখাবে না। এবার আমরা এক ধাপ এগিয়ে যাব এবং এমনভাবে পদক্ষেপ করব যাতে পাকিস্তান ভাবতে বাধ্য হয় যে তারা বিশ্ব মানচিত্রে থাকতে চায় কি না।’

রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর জেলার অনুপগড়ে সৈন্যদের উদ্দেশ্যে কঠোর ভাষায় ভাষণে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পাকিস্তান যদি বিশ্ব মানচিত্রে তার স্থান ধরে রাখতে চায়, তাহলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতামূলক সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করতে হবে। সেনাপ্রধান ভারতীয় সৈন্যদের প্রস্তুত থাকতে বলেন। তিনি সাফ ভাষায় বলেন, ‘এখনই নিজেদের সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রাখুন, যদি ঈশ্বর চান, সুযোগ শীঘ্রই আসবে।’

জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের আস্তানার উপস্থিতির প্রমাণ বিশ্বকে দিয়েছে।তিনি বলেন, ভারত যদি এই প্রমাণ খুঁজে না পেত, তাহলে পাকিস্তান সব গোপন করে ফেলত। সেনাপ্রধান বলেন, ২২শে এপ্রিল পহেলগাঁওতে হামলার পর যখন অপারেশন সিঁদুর শুরু হয় তখন গোটা বিশ্ব ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তিনি বলেন, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নয়টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, যার মধ্যে সাতটি সেনাবাহিনী এবং দুটি বিমানবাহিনীর দ্বারা আঘাত হানে।

জেনারেল দ্বিবেদী বলেন,’আমরা লক্ষ্যবস্তুগুলি চিহ্নিত করেছিলাম কারণ আমরা কেবল সন্ত্রাসীদের ক্ষতি করতে চেয়েছিলাম। আমরা তাদের ঘাঁটিতে আঘাত করার লক্ষ্য রেখেছিলাম। সাধারণ পাকিস্তানি নাগরিকদের বিরুদ্ধে আমাদের কোনও অভিযোগ নেই…। কারণ সন্ত্রাসীদের মদত দেওয়া হচ্ছিল (পাকিস্তানের তরফে), সেই সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছিল।’

আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে বসবাসকারীদের প্রতি তাঁর আবেদন সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সীমান্তবর্তী জনগণকে সাধারণ অসামরিক নাগরিক হিসেবে নয় বরং সৈন্য হিসেবে বিবেচনা করি। এর অর্থ তাঁরা যুদ্ধে আমাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আসন্ন সংগ্রাম দেশের সংগ্রাম, কেবল সেনাবাহিনীর নয়।’

সেনাপ্রধান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী যে ১৯৬৫ এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় সাধারণ নাগরিকরা সৈন্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাইব তাঁরা আগামী দিনগুলিতেও আমাদের সাথে যোগ দিন। আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাতে চাই যে তাঁদের উদ্যোগ আমাদের সৈন্যদের মনোবল বৃদ্ধি করে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *