মাস ঘুরলেই বাংলাদেশে ভোট। তার আগে এই মুহূর্তে তুঙ্গে চলছে প্রচারপর্ব। আর এই ভোটে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ। কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে প্রার্থী হাসনাত আজও তাঁর চেনা ভারত বিদ্বেষী ভাষণ জারি রাখেন। এদিকে, তাঁর পার্টি এনসিপি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে মিছিল করে এগিয়ে আসতে থাকলেও, তাকে মাঝ রাস্তায় পুলিশ আটকে দেয় বলে জানা দাবি বাংলাদেশি মিডিয়ার।
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় বুধবার বিকেলে এক কর্মসূচিতে যোগ দেন এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ। বাংলাদেশে ভোটের আগে, হাসনাত তাঁর চেনা ভারত বিরোধী সুর ধরে রেখে এদিন বলেন,’ একটি পক্ষ চায় গোলামি, আরেকটি পক্ষ চায় আজাদি। একটা পক্ষ চায় ভারতের তাঁবেদারি আর একটা পক্ষ চায় বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা। একটা পক্ষ চায় স্বাধীনতা, আরেকটা পক্ষ চায় পরাধীনতা। আমরা চাই,কে বাংলাদেশকে পরিচালনা করবে, কে সরকার গঠন করবে, সেটা বাংলাদেশের জনগণই নির্ধারণ করবে।’ প্রশাসনকেও তিনি একহাত নিয়ে বলেন,’পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কাজ না ব্যালটে সিল দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠা করা। প্রশাসনের কাজ হচ্ছে জনগণ যাতে নির্ভয়ে নিজের ভোটটা নিজে দিতে পারেন—সেই ব্যবস্থা করা। পুলিশ এবং প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, আপনারা নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করুন।’
উল্লেখযোগ্যভাবে হাসনাত, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন,’২০০৯ সালের পর গণতন্ত্রের জন্য যারা রক্ত দিয়েছে, শ্রম-ঘাম দিয়েছে রাজপথে রক্ত দিয়েছে তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কতিপয় রাজনৈতিক দল আবার ভারতীয় তাঁবেদারি শুরু করার পাঁয়তারা করছে। আমাদের ভাইদেরকে আগুন সন্ত্রাসী হিসেবে মিডিয়াতে প্রচার করেছে। আজকে দেখতে পাচ্ছি অনেকেই তাদেরকে বুকে টেনে নিচ্ছে।’ প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ দেখেছে একের পর এক অগ্নিসংযোগের ঘটনা। কোথাও দীপু দাসকে হত্যা করে তাঁকর দেহ গাছে ঝুলিয়ে অগুন ধরানো হয়েছে, কোথাওবা খোকন দাসের গায়ে আগুন ধরানো হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়িতে আগুন ধরানোর ঘটনা ঘটে বাংলাদেশে। হাসনাত সভাতে খোলাখুলিই বলেন,’ভারতের বিরুদ্ধে’ যাঁরা বাংলাদেশে রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ওসমান হাদি অন্যতম ছিলেন। হাদির মৃত্যু নিয়েও তিনি ইউনুস প্রশানের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। হাসনাত বলেন,’আমাদের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারল না।’এদিকে, ঢাকার রাজপথে এদিন নামে এনসিপি। তাঁরা ভারত বিরোধী সুর তুলে সেখানে ভারতীয় দূতাবাসের দিকে মিছিল নিয়ে এগোন। মাঝ রাস্তায় আটকে দেয় পুলিশ, বলে জানা গিয়েছে। মিছিল থেকে একাধিক ভারত বিরোধী স্লোগান শোনা যায়।
