‘ধর্মকে টেনে এই ধরনের কর্মকাণ্ড আমার কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়নি।’ মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর এমনই ভিত্তিহীন মন্তব্য করলেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক। সঙ্গে তিনি এও বলেন, ‘ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে রেখে কলকাতায় মুস্তাফিজকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।’ এই আবহে তিনি আরও বলেন, ‘আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপে ভারতে গিয়ে খেললে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য শঙ্কার পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচ কলকাতায়। একদিকে যেখানে বাংলাদেশিরা ভারতকে বয়কট করার ডাক দিচ্ছে, অপরদিকে ভারতের লিগে বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে খেলতে না দেওয়ায় তাদের ‘কান্নাকাটি’ শুরু হয়ে গিয়েছে।
এই নিয়ে প্রাক্তন ফুটবলার তথা রাজনীতিবিদ আমিনুল বলেন, ‘যেহেতু সামনে বিশ্বকাপ আমাদের ক্রিকেটাররা ভারতে গিয়ে খেললে একটা শঙ্কা থেকে যায়। সে শঙ্কার জায়গাটা আমাদের ক্রিকেট বোর্ড ও আমাদের সরকারের দায়িত্বে যারা রয়েছেন, আমি তাদের কাছে ছেড়ে দিলাম, যে আপনারা দ্রুত সময়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা করুন।’ এরপর তিনি আরও বলেন, ‘আইপিএল না খেললে হয়তো মুস্তাফিজ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কিন্তু আমাদের দেশ মুস্তাফিজকে যে সম্মান দেয় সেটার ঘাটতি হবে না। মুস্তাফিজ কিন্তু আগেও আইপিএলে খেলেছে, হঠাৎ করে ধর্মীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে যাদের ষড়যন্ত্রের কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, বিসিবির উচিত এর তদন্ত করা।’
উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর খোকন দাস নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে কোপ মেরে তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই ব্যবসায়ী ৩ জানুয়ারি মারা যান। কাকতালীয় ভাবে, এই খবর সামনে আসার কিছু পরই বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানান, কেকেআরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা মুস্তাফিজুরকে দল থেকে ছেড়ে দেয়।

নিলামে ৯ কোটি টাকারও বেশি দাম উঠেছিল মুস্তাফিজের। তাঁকে কিনেছিল কেকেআর। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে মুস্তাফিজকে দল থেকে ছেড়ে দিতে বলে বিসিসিআই। এর আগে সিএসকে, হায়দরাবাদের মতো দলের হয়ে আইপিএল খেলে গিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। এদিকে একদিকে ভারত বয়কটের ডাক দিচ্ছে বাংলাদেশ। অপরদিকে মুস্তাফিজ বাদ পড়ায় কার্যত রাতের ঘুম হাওয়া হয়েছে বাংলাদেশিদের।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমবর্ধমান অত্যাচারের আবহে কলকাতা নাইট রাইডার্সে মুস্তাফিজকে নেওয়ায় শাহরুখের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন ডানপন্থীরা। এমনকী শাহরুখকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম। মুস্তাফিজকে না খেলানোর দাবিতে সরব হয়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর মত নেতারাও। শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, আধ্যাত্মিক গুরু দেবকীনন্দন ঠাকুরও মুস্তাফিজ ইস্যুতে শাহরুখকে তুলোধোনা করেছিলেন। এদিকে বিজেপির সাংসদ সঞ্জয় জয়সওয়াল বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে প্রসন্ন করতে নাকি মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স।