দীপু দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরও বাংলাদেশে চলছে পর পর মারধর ও গণপিটুপনির ঘটনা। এবার সামনে আসে সেদেশের এক ব্যবসায়ী খোকন দাসের ওপর জনতার চড়াও হওয়ার কাণ্ড। জানা যায়, বছর ৫০র খোকনকেও মারধর করে গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খোকন। তাঁর স্ত্রী সীমা এই ঘটনা ঘিরে মুখ খোলেন সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির কাছে।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সীমা বলেন,’ আমাদের কারোর সাথে কোন বিরোধ নেই। আমরা বুঝতে পারছি না কেন আমার স্বামীকে হঠাৎ করে টার্গেট করা হল!’ সেই ভয়াবহ দিনের ঘটনার কথা বলতে গিয়ে সীমা বলছেন,’ এজন্যই তারা তার মাথায় ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।’ ইন্ডিয়া টুডে-র রিপোর্ট বলছে, সেই অবস্থাতেই পাশের এক পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে ওই উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রক্ষা পান খোকন। খোকনের স্ত্রী বলছেন, অভিযুক্ত ২ জনকে শণাক্ত করেছেন অসুস্থ খোকন, ‘পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। আমি সরকারের কাছে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করছি’, বলছেন সীমা।
এই সংবাদমাধ্যমকে এক স্থানীয় জানান, তাঁরা খুবই আতঙ্কে রয়েছেন এই মুহূর্তে। এদিকে, আহত খোকনের চোখে অপারেশন হয়েছে। তাঁকে ইনটেনসিভ কেয়ার-এ রাখা হবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে খোকনের ব্যবসা। তাঁর গ্রামে একটি মোডিসিন ও মোবাইলের ব্যবসা রয়েছে খোকনের। বুধবার রাতে তাঁর দোকান বন্ধ করার সময় হামলাকারীরা খোকনের ওপর চড়াও হয় বলে খবর। নৃশংসভাবে তাঁর গায়ে আগুন ধরাতেই খোকন পুকুরে ঝাঁপ দেন বলে খবর। এদিকে, আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে ঢাকার এক হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিন সন্তান নিয়ে সীমা খোকনের সংসার। আপাতত তাঁরা তাকিয়ে রয়েছেন ইউনুস সরকারের প্রশাসনের দিকে। খোকন দাস কাণ্ডে ইউনুস সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকে তাকিয়ে আরও অনেকে।
