বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে উদ্বাস্তু শিবিরে থাকতে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। তারা বাংলাদেশি নাগরিক নন। এই সব রোহিঙ্গাদের অনেকেই আবার বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পার করে ভারতেও চলে আসছে। এবার বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হল, সেই দেশে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে জাতীয় পরিচপত্র করিয়ে নিচ্ছে রোহিঙ্গারা। এই আবহে অবৈধ ভাবে নাগরিকত্ব পেয়ে যাচ্ছে তারা।
বাংলাদেশি সংবাদপত্র কালের কণ্ঠের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, নেত্রকোনায় নাকি রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পরিচয়পত্র বানিয়ে নিচ্ছে ঘুষ দিয়ে। কিন্তু সেই পরিচয়পত্র তৈরির জন্য দেওয়া যাবতীয় তথ্য নাকি ভুয়ো হচ্ছে। কতকটা ভারতেরই মতো সেখানে ভুয়ো পরিচয়পত্র বানাতে ভুয়ো বাবা বানানো হচ্ছে। এমনকী পরিচয়পত্র বানানোর পরে এই সব রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি ভোটার তালিকাতেও নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ফেলছে।
এদিকে সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা ভারতের জন্য চিন্তার বিষয় হতে পারে। কয়েকদিন আগে রাইফেলের গুলি সমেত রোহিঙ্গা ধরা পড়েছিল। এর আগে কক্সবাজারে এক মিনি ট্রাকে করে সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার করা হয়েছিল তিন যুবককে। তারা বস্তায় করে ম্যাগাজিন রাখার পকেট নিয়ে যাচ্ছিল। এর আগে মার্চ মাসে কক্সবাজারে আরাকান আর্মির ৬০ জোড়া পোশাক ধরা পড়েছিল বাংলাদেশে। সেই সময় মনে করা হচ্ছিল, অন্তরঘাতমূলক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করার জন্যেই এই পোশাক তৈরি করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছিল। এই সবের মাঝেই বাংলাদেশ থেকে রাখাইনে মানবিকতার নামে করিডোর খুলতে চেয়েছিলেন মহম্মদ ইউনুস। আবার এর আগে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছিলেন, উত্তরপূর্ব ভারত এবং পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থির করে তোলার আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। এই পরিস্থিতিতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের তৎপরতা ভারতের জন্যেও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকার পাশে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির শীর্ষ নেতা আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনি সহ ১০ জনকে। নারায়ণগঞ্জে এক বহুতলের ফ্ল্যাটে আরামে থাকত এই রোহিঙ্গা জঙ্গি। হিন্দুদের উপর নির্যাতনের জন্য কুখ্যাত এই জঙ্গি নেতা আতাউল্লাহ। তাকে আন্তর্জাতিক আদালতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদনও জানিয়েছিল মায়ানমারের হিন্দুরা। ২০১৭ সালের অগস্ট মাসে উত্তর মংডু এলাকায় খা মউংসিক গ্রামে ১০০ জনেরও বেশি হিন্দুকে মেরেছিল এই আতাউল্লাহ। মৃতদের মধ্যে ২৩ জন শিশু ছিল বলে দাবি করা হয়। এহেন আতাউল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার এত কাছে ছিল, যা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল।

এদিকে সম্প্রতি জানা যায়, রাখাইন ও বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পার্বত্য জঙ্গলের গভীরে চলছে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের সামরিক প্রশিক্ষণ। উল্লেখ্য, সম্প্রতি আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির তরফ থেকে সেই প্রশিক্ষণের ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যায়, সশস্ত্র জঙ্গিরা পুরোপুরি সামরিক সজ্জায়। এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে এমনিতে পাকিস্তানের আইএসআই সাহায্য করে বলে দাবি করা হয়। এই পরিস্থিতিতে তাদের কাছে পেশাদার সেনার মতো সাজ সরঞ্জাম এসে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে বুথিডাং, মংডু এবং রাথেডাংর মতো বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শহরগুলিতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।