ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের। এই আবহে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ঢাকায় তলব করেছিল ইউনুস সরকার। সেই মতো গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় পৌঁছে যান রিয়াজ। আর ৩০ ডিসেম্বর বিদেশ উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হোসেন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন রিয়াজ। বৈঠকে যুক্ত হয়েছিলেন বিদেশ সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
এদিকে খলিলুর বৈঠক শেষে জানান, এই ধরনের বৈঠক ‘স্বাভাবিক’। তবে রিয়াজকে ‘ফেরত আনা’ হয়নি বলে জানান তিনি। জানা গিয়েছে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভারতের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় সেই বৈঠকে। বিগত দিনে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে চট্টগ্রামে ভাতরীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনে হামলা করেছিল কট্টরপন্থীরা। ঢাকায় হাইকমিশনের ‘এক একটা ইট খুলে নেওয়ার’ হুমকি দেওয়া হয়েছে। এদিকে ভারতে দিল্লির হাইকমিশন ছাড়াও শিলিগুড়ি, আগরতলা, কলকাতার মতো শহরে ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে প্রবল বিক্ষোভ হয়েছে দীপু দাসের নৃশংস হত্যা প্রতিবাদে। এই সবের মাঝে ঢাকা এবং দিল্লি উভয় দেশেরই হাইকমিশনারদের তলব করেছিল। আর এবার দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে ঢাকায় তলব করা হয়। এই আবহে রাতে তিনি বাংলাদেশে যান।
এর আগে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছিল দিল্লি। তবে ভারতের সেই বক্তব্যকে ‘অতিরঞ্জিত’ আখ্যা দিয়েছিল ইউনুসের সরকার। জবাবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ২৯০০ ঘটনা ঘটেছে বিগত দেড় বছরে। এরপর ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় পালটা নিন্দা জানায় বাংলাদেশ। নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষা না দিতে পেরে ভারতের ওপর পালটা চাপ সৃষ্টির এই কৌশল অবলম্বন করে ঢাকা। এদিকে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দিল্লি বরাবরই বলে এসেছে, সব দলকে মিলিয়ে ভোট করাতে হবে। তাতে আবার আঁতে ঘা লাগছে ইউনুস সরকারের। কারণ শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে তারা নিষিদ্ধ করে রেখেছে। এছাড়া সীমান্তে চোরাচালান, বাংলাদেশি নেতাদের ‘সেভেন সিস্টার্স ভাগ’ নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে চিড় আরও গভীর হয়েছে এই কয়েকদিনে।
