বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা দল এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নিজের হলফনামায় জানালেন, তিনি পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন। তবে কাকে, কী নিয়ে পরামর্শ দেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে তিনি জানিয়েছেন, পরামর্শ দিয়ে তিনি বছরে ১৬ লাখ টাকা উপার্জন করেছেন চলতি অর্থবর্ষে। হলফনামা অনুযায়ী, এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নাহিদ ইসলাম ১৩ লাখ টাকা আয় করেছিলেন, আয়কর দিয়েছিলেন ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা। স্নাতক পাশ নাহিদের মোট সম্পত্তি হল ৩২ লাখ টাকার।
এদিকে নিজের নামে নাহিদের বাড়ি বা গাড়ি নেই। এদিকে তাঁর স্ত্রীর সম্পত্তির পরিমাণ ১৫ লাখ টাকা। নাহিদের কাছে নগদ আছে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাঙ্কে জমা আছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা। এছাড়া তাঁর ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকার গয়না, ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার আসবাব রয়েছে। আর নাহিদের স্ত্রীর আছে নগদ ২ লাখ টাকা ও ১০ লাখ টাকার গয়না। এদিকে তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ লাখ টাকার ঋণ।
এদিকে নাহিদের দলের হাসনাত আবদুল্লাহ নিজের হলফনামায় জানিয়েছিলেন, স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ৫০ লাখ টাকার সম্পত্তি রয়েছে তাঁর। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাতের নামে ২৬ লাখ টাকার সোনা রয়েছে ব্যাঙ্কে। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে তাঁর বার্ষিক আয় নাকি ছিল ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। তাঁর সম্পত্তির মধ্যে ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ৬৫ হাজার টাকার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে। এদিকে নিজের কিংবা পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানের নামে কোনও ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেননি বলে জানিয়েছেন হাসনাত। বর্তমানে তিনি ব্যবসা করছেন বলে হলফনামায় দাবি করেছেন।

এদিকে এই হাসনাত আবদুল্লাহ একটা সময় দাবি করেছিলেন, হাসিনার জমানায় নাকি মাত্র ১ হাজার টাকার অভাবে তিনি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ অগস্টের পর থেকে তাঁর হাভভাব এবং চলাফেরায় আমূল পরিবর্তন আসে। এই হাসনাত যে গাড়িতে চড়েন, তার নাম টয়োটা প্রাডো। সেই গাড়ির দাম বাংলাদেশি মূল্যে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। যদিও হাসনাত দাবি করেছিলেন, তাঁর শুভাকাঙ্খীরা এই গাড়ি করে তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায়। এই গাড়ির মালিক তিনি নন। হলফনামাতেও এই গাড়ির কোনও উল্লেখ নেই।